’হ্যামকো কোচ নেহি কারতে হ্যায়’
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার ২৭ বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে।এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বশেষ অপারেশন হয়েছিলো ১৯৯৯ সালে, সেইসময় কর্মরত জেনারেল সার্জন প্রয়াত ডাক্তার খায়রুল আলম বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে অপারেশন বন্ধ রয়েছে।এরপর অপারেশন এর জন্য পযায়’ ক্রমে কোটি টাকার অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি, অপারেশন থিয়েটার তৈরি হলেও সার্জনসহ,এনেসথেসিয়া ও অভিজ্ঞ নার্স নেই। তাই ২৭ বছর ধরে বানিয়াচং উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন অপারেশন হয় না। ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে বাধ্য হয়ে গরীব,মেহনতি মানুষরা ছুটে যান।তবে সূত্রে জানা যায়, মাঝেমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়ন হয় না।
অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি থাকলে সার্জন থাকেননা। আবার সার্জন থাকলে এনেসথেসিয়ার লোক থাকেন না। আবার দেখা যায় লোকবল থাকলেও অস্ত্রোপাচারের কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে যাচ্ছে । এরকমভাবে কেটে গেছে ২৭ বছর। কিন্তু কার্যকরভাবে সমন্বিত কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় নেই।
যে কারনে দীর্ঘদিন যাবৎ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী চিকিৎসা নিতে আসা জনসাধারণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী জানান, কিছুদিন পূর্বে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে আসেন একজন গাইনি ডাক্তর দেখাতে জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখেন উনি উপসহকারী এক মেডিকেল অফিসার ডিউটি করছেন, সমস্যার কথা বললে জানান হবিগঞ্জে যান সেখানে ভালো ডাক্তর পাবেন।এই হলো মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ঘুনে ধরা ১৮ বছরের অডিটোরিয়াম।
বানিয়াচং হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার জানান এই হাসপাতালে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।
হাসপাতালে আসা এক কলেজ পড়া যুবক আত্মীয়কে দেখতে আসা, আক্ষেপ করে বলেন হাসপাতালে সবকিছু থাকা স্বত্তেও সাধারণ রোগের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে বা কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে পাটিয়ে দেন। একজন কৃষক জমিতে কাজের সময় শামুকে হাত কেটে ফেলেন হাসপাতালে এসে দেখেন পিয়নে এক রোগীর কাটা পা সেলাই করছে সেটা দেখে উনি হাসপাতালের সামনের এক ফার্মেসীতে চিকিৎসা করেন। হাসপাতালেরই এক উপ-সহকারী কে দিয়ে। ২ বছর পূর্বে একজন এনেসথেসিয়ার ডাক্তার যোগদান করে তিনদিন পরেই চলে যান।
বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাঃ শামীমা আক্তার বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার কারনে জরুরি কোন অস্ত্রোপাচার করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে টুকটাক কোন সমস্যা হলে আমরা চেষ্টা করবো, (উনি,৬/৭)বছর যাবৎ এখানে কর্মরত? এমপি ও তার দলীয় লোকদের চিকিৎসা দিয়েই প্রাইভেট বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে ওনার উপরে,তাইতো বুঝালেন হ্যামকো কোচ নেহি কারতে হ্যায়।





