বসন্ত বরণে শিমুল বাগানে মানুষের ঢল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণসুনামগঞ্জের
উপজেলার অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা শিমুল বাগানে চলছে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান। বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বাগানজুড়ে মানুষের ঢল নেমেছে। লাল টকটকে শিমুল ফুলে ছেয়ে যাওয়া গাছের নিচে রঙিন পোশাকে তরুণ-তরুণী, পরিবার-পরিজন ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ও পহেলা ফাল্গুনে এ দিনে সকাল থেকে জেলা শিল্পকলা একাডমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান। যেখানে ছিল সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনা। বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আবহ। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাতে থাকেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।
সিলেট থেকে ঘুরতে আসা শাহিনুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, শিমুল বাগানের সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। চারদিকে শুধু লাল আর লাল। বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের কারণে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। পরিবার নিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে।
ঘুরতে আসা পর্যটক নুসরাত জাহান শীলা বলে, বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উপভোগ করতে অবশ্যই শিমুল বাগানের বিকল্প নাই। তবে শিমুল বাগান আসতে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আসার রাস্তায় মন ভেঙে গেছে। এখন বাগানে এসে খুবই ভালো লাগছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, পর্যটকদের আগমনে বিক্রি বেড়েছে। ফলে বসন্ত উৎসব শুধু আনন্দই নয়, অর্থনৈতিক গতিশীলতাও তৈরি করছে। প্রকৃতির রঙে রাঙানো শিমুল বাগানে বসন্ত বরণ আর ভালোবাসা দিবসের এমন আয়োজন দর্শনার্থীদের মনে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। বসন্তের এ রাঙা আবেশ চলবে ফুল ঝরা দিন পর্যন্ত এমন প্রত্যাশাই করছেন তারা।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মানিগাঁও এলাকায় অবস্থিত এই শিমুল বাগানটি প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা। বাগানে ছোট বড় মিলিয়ে তিন হাজারেরও বেশি শিমুল গাছ রয়েছে। ২০০৩ সালে বাণিজ্যিক ভাবনা থেকে এই শিমুল বাগানটি গড়ে তোলেন প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদিন। গাছগুলো বড় হয়ে ফুল ফুটতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাগানটি। একপর্যায়ে এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
প্রতিবছর বসন্ত মৌসুমে এ বাগানটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে এখানে জমে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শিমুল বাগানের মালিক রাকাব উদ্দিন বলেন, আমার বাবা আলহাজ জয়নাল আবেদিন ছিলেন একজন প্রকৃতি প্রেমী মানুষ। তিনি প্রায় ২৫ বছর আগে এই বাগান তৈরি করেন। প্রতিবছর বসন্ত এলেই শিমুল ফুল ফুটে বাগান লাল হয়ে ওঠে। এবার জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা চাই এই বাগানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হোক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক পাবেল বলেন, বসন্ত আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকৃতির সঙ্গে সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন মানুষকে আনন্দ দেয়, মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে। তাহিরপুরের শিমুল বাগান এখন জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতি বছর এই বাগানে বসন্ত অনুষ্ঠান করে থাকি। এবার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।




