দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সিলেট আই ডেস্ক ::
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি মন্ত্রিপরিষদ গঠনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন চলছে যে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। গুলশান কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানায়, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির পদে তার আসন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের জন্য পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও-১ থেকে নির্বাচিত এ নেতা বর্তমানে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও সৎ নেতৃত্ব দেশের নতুন রাষ্ট্রনীতি এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মির্জা ফখরুল।
১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেন। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একজন সদস্য ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জয়লাভ করেন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মন্ত্রীত্ব পালন করেন।
মির্জা ফখরুল ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। তিনি বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণ না করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে নিয়মিত মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার ত্যাগ, স্বচ্ছতা এবং পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব তাকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনন্য করে তুলেছে।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন নির্বাচন ও জনগণের মৌলিক অধিকারের জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।





