দীর্ঘ পথচলায় আরিফুল হকের নতুন অধ্যায়
নিজস্ব প্রতিবেদন :
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
রাজনীতির মাঠে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে। এরপর মেয়র। এবার পূর্ণমন্ত্রী। সিলেটের রাজনীতিতে একের পর এক ধাপ পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় উঠলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
আরিফুল হক চৌধুরী–এর রাজনৈতিক উত্থান অনেকটাই গল্পের মতো। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু। তখনই উন্নয়ন ও পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন। নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা স্পষ্ট হয়। সে সময় তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান–এর আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিতি পান তিনি।
ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারও রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসেন।
২০১৩ সালে সিসিক নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান–এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে চমক দেখান আরিফুল। প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র কামরানকে হারিয়ে তিনি হন সিলেটের মেয়র। পরবর্তী নির্বাচনেও জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদকালে সড়ক সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন দখলে থাকা ছড়া-খাল উদ্ধারের উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন মোড় আসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
দলীয় নির্দেশে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন আরিফুল। শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমেও বড় ব্যবধানে জয় পান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি নিজেই জানান, তাঁকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া আরিফুল ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
নিজের পথচলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। দল ও মানুষের আস্থাই তাঁকে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে।
সিলেটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এই পরিচিত মুখ এখন জাতীয় পর্যায়ে নতুন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। কাউন্সিলর থেকে মেয়র, আর এখন মন্ত্রী—আরিফুলের এই যাত্রা ঘিরে সিলেটে বইছে আবেগ ও উচ্ছ্বাসের হাওয়া।




