শাবিপ্রবিতে দেশে প্রথমবারের মতো ইলেকশন ল্যাবের উদ্বোধন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
দেশে প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র নির্বাচনভিত্তিক গবেষণার উদ্দেশ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে ‘ইলেকশন ল্যাব’র উদ্বোধন হয়েছে।
নির্বাচন, ভোট আচরণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে পদ্ধতিগত ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনার লক্ষ্যে এ ল্যাব কাজ করবে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)সকাল ১১টায় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেকশন ল্যাবের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই যে ইলেকশন ল্যাব এর যাত্রা শুরু হচ্ছে এর মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ইলেকশনের ডাটা কালেকশন, পর্যালোচনা করে উপকৃত হবে। এসময় তিনি এবছরের নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, এবছরের নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের থেকে তুলনামূলক ভালো হয়েছে। এই ইলেকশন ল্যাব দেশের পরবর্তী ইলেকশন গুলো আর ভালো করার জন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।
ইলেকশন ল্যাব উদ্বোধন সভার সভাপতি ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফুর রহমান বলেন, ‘বিভাগে প্রথমবারের মত ল্যাব উদ্বোধন একটি যুগান্তকারী উদ্যোগন। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের গবেষণা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়াতে পারবে’
ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, “এই ল্যাবের লক্ষ্য হলো নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্তের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করা।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইলেকশন ল্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন ও প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। এসময় বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. ফাহামিদা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. হাজেরা আক্তারসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি বিভাগের এক সভায় ইলেকশন ল্যাব গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ, আসনভিত্তিক ফলাফল মূল্যায়ন এবং ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ইলেকশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। উন্নয়ন ও নাগরিক প্রতিষ্ঠান ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর সহযোগিতাও এতে যুক্ত রয়েছে।
ইলেকশন ল্যাব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য বাংলাদেশে ভোট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সময়োপযোগী, নির্ভুল এবং গবেষণাভিত্তিক পরিসংখ্যান, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণমূলক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করা। জরিপের তথ্য, নির্বাচনের ফলাফল এবং অন্যান্য প্রায়োগিক উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ ল্যাব গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে কঠোর একাডেমিক মান বজায় রেখে সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্য প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সচেতন জনআলোচনা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের ফলাফল, ভোটের প্রবণতা, রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বেশিরভাগ আসনে জামায়াতের তুলনায় বিএনপি বেশি আসন লাভ করেছে মূলত তাদের সারাদেশব্যাপী সাংগঠনিক শক্তি, শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক এবং গ্রামীণ এলাকায় দৃঢ় উপস্থিতির কারণে। সংখ্যালঘু ভোট এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশের সমর্থনও বিএনপির পক্ষে গেছে, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বয়ান ব্যবহার তাদের বিস্তৃত রাজনৈতিক বৈধতা জোরদার করেছে। তবে কিছু অঞ্চলে, বিশেষত শহরাঞ্চল এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় জামায়াত তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে। তাদের জোট জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির ছয়টি জয়ের মাধ্যমে। ভারতবিরোধী বক্তব্য, সীমান্ত হত্যা ইস্যু এবং বিভিন্ন আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোট বিভাজনও জামায়াতের স্থানীয় সাফল্যকে সহায়তা করেছে। নির্বাচনী ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশ আসন বেশি জয়ী হওয়ায় সংসদে দুর্বল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত অংশগ্রহণ করবে আর পাশাপাশি বড় মেজরিটির জন্য বিএনপি সহজে আইন পাশ করা থেকে শুরু করে একচ্ছত্র স্বৈরাচারী সরকার হিসেবে উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




