সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ অসম্পুর্ণ : কৃষকদের আশঙ্কা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার প্রায় চার লাখ কৃষকের সারা বছরের ভাগ্য নির্ধারণ হয় বোরো ফসলে। এই সোনালি ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এবারও তার ব্যত্যিক্রম হয়নি। কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি), এই লক্ষ্যে কর্মতৎপরতা কম এবার। প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তারা নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ায়, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের তদারকিতে ঘাটতি পড়েছে। জেলাজুড়েই এবার বাঁধের কাজের অগ্রগতি অন্যান্য বছরের চেয়ে কম।
সোমবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৯ থেকে ১৩ নম্বর পিআইসি ঘুরে দেখা যায়–ফুলবড়ি, কাটাখালি গ্রামসংলগ্ন পিআইসি, হরিমইন্না বাঁধ ও বেকাবাঁধে চলছে এখনও মাটির কাজ। ক্লোজারগুলোতে বাঁশের আড়, দুরমুজ, ঘাস লাগানো এসব কাজ এখনও শুরু হয়নি। স্থানীয়দের মতে, কাজে এমন ধীরগতি থাকলে, আগামী এক মাসেও শেষ হবে না ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ।
ফুলবড়ি-কাটাখালি গ্রামের কৃষক তাহির আলী বলেন, কাজ থমকে আছে। জায়গায় জায়গায় এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। দুদিন পরে বৃষ্টি নামলে তখন আর কাজ করা সম্ভব নয়। ঘাস লাগাতে পারবে না, মাটিও আনতে পারবে না। ফুলবড়ি গ্রামের কৃষক সুমন বণিক বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গাতে এখনও মাটি ফেলার কাজ বাকি রয়েছে, এরপর ফিনিশিং, ঘাস লাগানো এসব কাজ বাকি। চৈত্র মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখে গিয়ে গড়াবে তাতে। বৃষ্টি আসার আগে যেন এই কাজগুলো শেষ হয়।
একই গ্রামের আরেক কৃষক আবু তাহের বলেন, কাজের যে অগ্রগতি এইভাবে ২৮ তারিখের মধ্যে কোনোভাবেই শেষ করা সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ দেখতে চান স্থানীয় কৃষকরা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৯ নম্বর পিআইসির সভাপতি রতীন্দ্র বর্মণ বলেন, ঠিক মতো বিল পাচ্ছেন না তারা। টাকা জোগাড় করতেই কাজের গতি কমে আসছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, এ বছর ৭১০টি পিআইসির মাধ্যমে ৬০১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলছে। সার্বিক অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ, ভাঙন অংশে অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ।




