আর অপেক্ষা নয়, এবার সুরমা নদীর ওপর সেতুর দাবি জামালগঞ্জবাসীর
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও সাচনা-বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি আজও উপেক্ষিত রয়ে গেছে। সুরমা নদী পারাপারের নিত্যদিনের এই সমস্যা এখন অত্র এলাকার লাখো মানুষের জন্য এক চরম দুর্ভোগ ও অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার জামালগঞ্জ সদর এবং সাচনা-বাজার এবং ফেনারবাঁক এবং বেহেলী এবং ভীমখালী ও জামালগঞ্জ উত্তর এই ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রামের ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলো সাচনা-বাজার। সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে উপজেলার সকল সরকারি দফতর এবং আদালত এবং বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবস্থিত। নদীর অপর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী সাচনা-বাজারসহ তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয়।
একটি সেতুর অভাবে এই অঞ্চলের মানুষ শিক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাতের বেলা নৌকা না থাকায় অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। নদী পারাপারের সময় প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বিগত ১৭ বছরে এলাকার সাবেক সংসদ সদস্যসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বারবার এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মাঝেমধ্যে টেন্ডার হওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। কেন এবং কাদের কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছরেও জামালগঞ্জবাসীর এই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ ১ আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব কামরুজ্জামান কামরুল মহোদয়ের নিকট এলাকাবাসীর জোর দাবি তিনি যেন সাচনা-জামালগঞ্জ সেতু নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। যত দ্রুত সম্ভব এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে জামালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য তারা বর্তমান সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




