কুড়িগ্রামে স্ত্রী হত্যাকারী স্বামীকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
ঋণের চাপে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করার পর কুড়িগ্রাম থেকে সিলেটে এসে আত্মগোপন করেছিলেন শহিদুল ইসলাম বাবলু (৫৫)। প্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা বাবলুর অবস্থান নিশ্চিত হয় র্যাব। পরে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন কানিশাইল ঈদগাহ মসজিদের পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে র্যাব-৯।
গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম বাবলু (৫৫) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানাধীন ভিতর বন্দ (বানিয়ার ভিটা) গ্রামের রজব আলীর ছেলে।
র্যাব জানায়, গৃহবধূ মহিনা বেগম ২ ছেলে সন্তানের জননী। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানাধীন বানিয়ার ভিটা (দিগদারী) এলাকার বাসিন্দা। স্বামী বাবুলসহ দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাদামগাছ তলা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। ভিকটিম তার পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যান। নিহত মহিনা বেগম ও তার স্বামী বাবুল বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির নিকট হতে ঋণ নিয়েছিলেন যার বেশির ভাগই ছিল মহিনা বেগমের নামে। বাড়িতে যাওয়ার পর নিহত মহিনা বেগম ও তার স্বামী কিছু ঋণ পরিশোধ করে এবং কিছু ঋণ পরিশোধ অবশিষ্ট থেকে যায়। এসব ঋণ নিয়ে তারা উভয়েই চিন্তিত ছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনার দিন ১১ জানুয়ারি প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ শয়নকক্ষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে মহিনা বেগমের মা ঘুম থেকে উঠে ঘর হতে বের হয়ে দেখতে পান নিহতের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো। অনেক ডাকাডাকি করার পরও ছিটকিনি না খোলায় দরজা ভেঙে দেখতে পান ঘরের খাটের উপর পড়ে আছেন মহিনা বেগম। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও গলায় একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও ঘরের ভেতরে নিহতের স্বামী বাবুল নেই।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।




