সুনামগঞ্জে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ইউপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সদর ইউপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেহেদীকে অভিযুক্ত করে ওই ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার মধ্যনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিকেল ৫টার দিকে ছাত্তার মেহেদীর বিরুদ্ধে এ লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে মেহেদীর দাবি, চেয়ারম্যান তাঁর আপত্তিকর ভিডিওর ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে মেহেদী ইউপি কার্যালয়ে এসে ছাত্তারের কাছে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের কি কি বাজেট আছে, তা জানতে চায়। এ সময় ছাত্তার কোনো বাজেট নেই বলে জানায়। এতে মেহেদী উত্তেজিত হয়ে ছাত্তারকে গালিগালাজ শুরু করে।
এক পর্যায়ে ছাত্তারকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ইউপি কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং ইউপি কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কয়েকটি চেয়ার, টেবিল, গ্লাসসহ অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে মেহেদী। এ ছাড়া তিনি ছাত্তারকে বিভিন্নরকম ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্তারের ৭ মিনিটের একটি আপত্তিকর ভিডিও আমি হাতে পেয়েছি। তাই কেন সে এমনটি করেন, তা জানতেই তাঁর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আপত্তিকর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমি চলে আসার পর চেয়ারম্যান নিজেই চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।’
আব্দুছ ছাত্তার বলেন, ‘এ বিষয়টি (আপত্তিকর ভিডিও) নিয়ে মেহেদীর সঙ্গে কোনো তর্ক হয়নি। ওইদিন মেহেদী আমাকে ফোন করে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেন। আমি ব্যস্ত থাকায় পরে দেখার করার কথা বললে তিনি মানতে চাননি এবং তিনি আমাকে ইউপি কার্যালয়ে যেতে বলেন। আমি সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সে আসে এবং এ ঘটনা ঘটায়।’
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলা নেতাদের পরামর্শক্রমে মেহেদীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যনগর থানার ওসি এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বলা যাবে।






