স্বেচ্ছায় বিদায় নিতে চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কবে এবং কী প্রক্রিয়ায় বিদায় নেবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়া এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনও দুই বছরের বেশি বাকি থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগে আগ্রহী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অধিবেশন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ কোনো সদস্য অস্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করবেন এবং স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব
নতুন স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন ড. আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ পদ নিয়েও আলোচনা চলছে বিভিন্ন দলে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কে নতুন রাষ্ট্রপতি হবেন—তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা রয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে এ পদে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, সংসদ নির্বাচন শেষে তিনি পদত্যাগ করতে আগ্রহী। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও মেয়াদপূর্তির আগেই পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া অভিশংসন বা শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণেও অপসারণের বিধান রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।






