বিস্ময়কর আবিষ্কার, সউদীতে মিলল ২ লাখ ২১ হাজার কেজি সোনা!
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সউদী আরবে নতুন করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাদেন’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চারটি পৃথক স্থানে মোট ৭৮ লাখ আউন্স—অর্থাৎ ২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের নিট মজুদ নিশ্চিত হয়েছে।
কোম্পানির তথ্যমতে, পরিকল্পিত ড্রিলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের সন্ধান মিলেছিল। তবে বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান কার্যক্রম দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।
মাদেন জানিয়েছে, তাদের প্রধান চারটি প্রকল্প এলাকায়—মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও—এই মজুদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে; গত বছরের তুলনায় এখানে মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স এবং ওয়াদি আল জাও এলাকায় প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদ নিশ্চিত হয়েছে।
মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সউদী আরবের খনিজ সম্পদ কাজে লাগানোর কৌশলগত পরিকল্পনারই ফল। তার ভাষায়, নতুন মজুদ আবিষ্কার কোম্পানির সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ। চারটি স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া তাদের স্বর্ণ পোর্টফোলিওর বিস্তৃতি এবং সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। তিনি জানান, সম্পদের পরিমাণ বাড়ায় ভবিষ্যতে নগদ অর্থ প্রবাহও বাড়বে।
২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মধ্য সউদী আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর পরিধি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণ খনি এলাকাতেও নতুন খনিজ স্তরের সন্ধান মিলেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
উইল্ট আরও জানান, কোম্পানিটি শুধু স্বর্ণ নয়, তামা ও নিকেলের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখছে। তার মতে, ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’ অঞ্চলে বড় আকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। শায়বান ও জাবাল আল ওয়াকিল এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মাদেনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মানসুরা মাসারাহে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদের ধারণা করা হচ্ছে। প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২.৮ গ্রাম হারে মোট প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ আউন্স স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের ফলে এই প্রকল্পে নিট ৩০ লাখ আউন্স মজুদ বেড়েছে, যদিও মোট নতুন সংযোজন ছিল ৪২ লাখ আউন্স।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, মানসুরা ও মাসারাহ খনির গভীর স্তরে আরও খনিজ আকরিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম চলবে এবং ভূ-কাঠামো সংক্রান্ত নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পর্যায়ক্রমে হালনাগাদ করা হবে।





