মৌলভীবাজার–এ সূর্যমুখী চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সবুজের বিস্তীর্ণ মাঠের মাঝে হলুদের ঝলকানি। দূর থেকে মনে হয় যেন সূর্যের টুকরো নেমে এসেছে জমিনে। কাছাকাছি গেলে দেখা যায়, সারি সারি সূর্যমুখী ফুল মুখ তুলে আছে আকাশের দিকে। বাতাসে দোল খাচ্ছে, আর সূর্যের পথ অনুসরণ করে ঘুরছে তাদের মুখ।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন এমনই দৃশ্য। জেলা সদর, বড়লেখা, জুড়ী ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে সূর্যমুখী ক্ষেতে ফুটেছে হলুদ ফুল। কম খরচে ভালো লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন এ তেলফসল চাষে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট–এর মাঠে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সূর্যমুখীর চাষ। একই চিত্র শ্রীমঙ্গলের লাহারপুর ও ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায়।
লাহারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ওরফে মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ-সার দিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’
ভূনবীর ইউনিয়নের কৃষক মো. খলিল মিয়া সাত শতক জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘খরচ কম। এখনো ফুল পুরোপুরি আসেনি, তবে ফলন ভালো হলে দুই-তিন মণ বীজ পাওয়া যেতে পারে।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে এর আবাদ বেড়েছে। প্রতি বিঘায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যেতে পারে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আকবরপুরে চাষ করা হয়েছে বারী-৩ জাতের সূর্যমুখী। কৃষি বিভাগের ভাষ্য, এ জাতের গাছ তুলনামূলক খাটো হলেও ফুল বড় এবং ফলন বেশি। শক্ত কাণ্ডের কারণে ঝড়-বৃষ্টিতেও ক্ষতির আশঙ্কা কম।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে পতিত জমিও আবাদে আসছে। সূর্যমুখী চাষ কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।’
কৃষিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতেও এই ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






