সুনামগঞ্জে আমন ধান : একপাশে হাসি,অন্যপাশে হতাশা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের মাঠে এবার আমন ধানের মৌসুম শুরুতেই কৃষকের মুখে দেখা গেছে মিশ্র অনুভূতি। একপাশে আনন্দের হাসি, অন্যপাশে হতাশার ছায়া। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো ধান কর্তনের কারণে মাঠে চলছে ব্যস্ততা, কিন্তু শীষে চিটা ও পোকা আক্রমণে অনেক কৃষকের মন বিষণ্ন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, এবছর রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩,৫২০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৮২,৬৫৬ হেক্টর। এ থেকে আশা করা হচ্ছে প্রায় ২,১৬,৯৯৭ মেট্রিক টন চাল উৎপন্ন হবে, যার বাজার মূল্য দাঁড়াবে ১,০৬৩ কোটি ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে কৃষকরা বলছেন, ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ।
সদর উপজেলার মুসলিমপুর গ্রামের সজীব হোসেন বলেন, “২৫ কেয়ার জমিতে চাষ করেছি। ফলন গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে, প্রতি কেয়ার ৮–১০ মন ধান।” অন্যদিকে চান মিয়া উল্লাসের সঙ্গে জানালেন, “আমার ২০ কেয়ার জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছি। আল্লাহর রহমতে প্রতি কেয়ার ১৮–২০ মন ধান হয়েছে।”
তিনি বলছেন, “৫ কেয়ার জমিতে ধান করেছি। ফলন কম হয়েছে, প্রতি কেয়ার ১০–১২ মন। পোকা আক্রমণ প্রতিরোধে ঔষধ কিনতে হয়েছে, খরচ বেড়েছে, আর সহায়তা কিছু পাইনি।”
বিশ্বম্ভরপুরের রামপুর গ্রামের জিহাদ মিয়া জানালেন, “সাড়ে তিন কেয়ার জমিতে ধান করেছি, ফলন কম, প্রতি কেয়ার ১০ মণ।” তবে বাদেরটেক গ্রামের আব্দুল লতিফের মুখে খুশির ছাপ, “১৬ কেয়ার জমিতে ১৯–২০ মন/কেয়ার ফলন হয়েছে।”
দোয়ারাবাজারের পশ্চিম মাছিমপুরের গোলাপ মিয়ার ধানের গাছগুলো যেন হাসছে মাঠে। তিনি জানান, “২৬ কেয়ার জমিতে প্রতি কেয়ার ১৮–২০ মন ধান হয়েছে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “সুনামগঞ্জে রোপা আমনের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে যেসব জমিতে আবাদ বিলম্বিত হয়েছে বা চারার বয়স বেশি, সেগুলোর ফলন কম হয়েছে। চারার বয়স ২৫ দিনের বেশি হলে ধানের ফলন প্রভাবিত হয়।”
মাঠে কৃষকের খুশি, হতাশা, পরিশ্রম আর আশা—সব মিলেই তৈরি হয়েছে এ বছরকের আমন ধানের জীবন্ত গল্প। ধান কেটে ঘরে তোলা, পোকা আর চাষের লড়াই, সব মিলিয়ে এ যেন সুনামগঞ্জের কৃষকের জীবনের আয়না।




