আগমন ঘটছে পরিযায়ী পাখির শীতের শুরুতেই
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে শীতের আগমন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শীতের শুরুতে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন হাওর-খাল-বিল ও জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি।
এদিকে পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও এই সময়ে শিকারে নেমেছে একদল পাখি শিকারি। ফলে হাওরাঞ্চলে কয়েক বছর আগের তুলনায় যেমন কমে আসছে পরিযায়ী পাখির আগমন, তেমনি কমছে দেশী প্রজাতির পাখির সংখ্যা। পাখি শিকার বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নজরদারি বৃদ্ধির দাবি পরিবেশবিদদের।
সরজমিনে রাজনগর কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, হাওরপারের কাশিমপুর এলাকার মাঠে জাল দিয়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে। অনেকগুলো খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় এসব জাল পেতে রাখা হয়েছে। রাতের বেলা যখন হাওরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাখিরা ঝাঁক বেঁধে উড়ে বেড়ায়, তখন এসব জালে আটকা পড়ে এগুলো। এরপর এসব পাখি স্থানীয় বাজারে বা লুকিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকজনের কাছে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার ওয়াপদা-কাশিমপুর এলাকায় জাল দিয়ে হাওরে পাখি শিকার করে এলাকার হাটে পাখি বিক্রি করা হয়। এছাড়া জালের পাশাপাশি বন্দুক বা এয়ারগান ব্যবহার করেও হাওরে পাখি শিকার করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এখনো শীত তীব্র হয়নি, কিন্তু পরিযায়ী পাখি আসা শুরু করতেই শিকারিদের তৎপরতা বেড়েছে।
হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওর এলাকায় খেতের ধারে ও বিলের পাশে জাল পেতে রাখা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে এসব জাল চোখে না পড়ায় পাখি আটকা পড়ে; সকালে পেশাদার শিকারিরা তা নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। হাকালুকি হাওরে প্রায় প্রতি শীতেই বিষটোপ ব্যবহার করে পাখি শিকারের ঘটনাও ঘটে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিকারির হাত থেকে পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত করার ছবি-ভিডিও শেয়ার করেছেন। ফেসবুক পোস্টে দেখা গেছে একজন দুটি কালেম পাখি এবং ১৩ নভেম্বর চারজন মিলে চারটি সরালি হাঁস অবমুক্ত করেছেন এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তবে অধিকাংশ শিকারই গোপনে হওয়ায় ঘটনা খুব কমই জানা যায়।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যেই এমন শিকার চলে। হাওরপারের অনেক বাড়িতে সাদা বক, পানকৌড়িসহ স্থানীয় ও পরিযায়ী পাখি আশ্রয় নেয়, সকাল হলে তারা দলে দলে হাওর ও মাঠের দিকে উড়ে যায়, বিকেলে ফিরে আসে। রাতের অন্ধকারে কিছু শিকারি টর্চের আলো ফেলে বন্দুক দিয়ে এসব পাখিই শিকার করে। কোনো কোনো বাড়ির লোকজন বাধা দিলেও সবার পক্ষে তা সম্ভব হয় না।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা জানান, “মৌসুমের এ সময়ে হাওর এলাকায় পরিযায়ীসহ দেশি পাখির শিকার বাড়ে। আর এসবের অধিকাংশই বিক্রি হয় চুপিসারে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেন, পাখি পরিবেশের অন্যতম অংশ। পরিযায়ী পাখি জলজ পরিবেশকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখি শিকার নিষিদ্ধ, অথচ এই আইন কার্যকর করতে প্রচার, প্রয়োগ যতটা দরকার, তাতে ঘাটতি আছে। জীববৈচিত্র্য ও হাওর রক্ষায় প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান,“ বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চলছে এবং পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাইল হাওর, বাইক্কা বিল ও ভৈরব বাজার এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পর্যায়ে আলাদা অফিস থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। তবে জনবলসংকটের কারণে শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবেশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিকার-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছি।”





