মেসিতে মুগ্ধ হায়দরাবাদের ভক্তরা
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:২০ অপরাহ্ণ
বাঁ পায়ের শটে একেকটি বল গ্যালারিতে পাঠাচ্ছিলেন লিওনেল মেসি। দর্শকরা তা দেখে এবং বল পেয়ে খুব উল্লাস করেন। হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যতক্ষণ থাকলেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর, সবাইকে তিনি উজ্জীবিত করে রাখলেন।
মেসির ভারত সফরে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে চরম বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তার পরে হায়দরাবাদের এই আয়োজনটি ছিল বেশ গোছানো। ক্লাব ইন্টার মায়ামির দুই সতীর্থ লুইস সুয়ারেস ও রদ্রিগো দে পলকে নিয়ে মেসি যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছান, তখন সেখানে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ চলছিল। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডিও সেই ম্যাচে কিছু সময় খেলেন। মেসি ও সুয়ারেসরা ভিআইপি বক্স থেকে খেলা দেখেন।
পরে মেসি মাঠে নেমে দুদলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন। কাউকে অটোগ্রাফ দেন এবং সবাইকে নিয়ে ছবি তোলেন। রেভান্ত রেড্ডি, দে পল, সুয়ারেস ও মেসি গোল হয়ে কিছু সময় নিজেদের মধ্যে পাস দেন। মেসি দুবার বল জালেও পাঠান। পরে খুদে ফুটবলারদের সঙ্গেও তিনি বল দেওয়া-নেওয়া করেন। দে পল এবং মেসি কয়েকবার কিক মেরে গ্যালারিতে দর্শকদের কাছে বল পাঠান। হাত নেড়ে গ্যালারির সবাইকে অভিবাদন জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের একদম শেষে প্রদর্শনী ম্যাচের জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মেসি। তিনি একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন এবং সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সঙ্গে হায়দরাবাদে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।’ মেসির জাতীয় দল সতীর্থ দে পল আবার বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা উপভোগ করছি। আশা করি আমরা আবার বিশ্বকাপ জিততে পারব।’ পরে ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও সেখানে হাজির হন। মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি ও রাহুল গান্ধীকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি উপহার দেন মেসি। এরপর দুই সতীর্থকে নিয়ে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
অন্যদিকে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর প্রথমপর্ব ছিল কলকাতায়। শুক্রবার রাতে সেখানে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে মেসি যান সল্টলেকে। প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে স্টেডিয়ামে আসেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই সেই আশা পূরণ হয়নি। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও অভিনেতারা মেসিকে ঘিরে রাখায় তারা ফুটবলের এই মহাতারকাকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মেসি চলে যাওয়ার পরপরই স্টেডিয়ামে তাণ্ডব শুরু হয়। অনেকে সিট উপড়ে ফেলে, বোতল ছোড়ে এবং মঞ্চ ভেঙে ফেলে। কাউকে আবার কার্পেট তুলে নিতেও দেখা যায়। মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে এমন বিশৃঙ্খলার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও খবর হয় এবং বিশ্ব ফুটবলের নজর কাড়ে। কলকাতা ও হায়দরাবাদের পর মুম্বাই হয়ে দিল্লি সফর দিয়ে ভারত সফর শেষ করবেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর।





