দোয়ারাবাজারে আহাদ হত্যাকাণ্ড, সন্দেহের কেন্দ্রে ‘বর্ডার সিন্ডিকেট’
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আহাদ মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সীমান্ত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযোগের তীর এখন একটি সংঘবদ্ধ ‘বর্ডার সিন্ডিকেটের’ দিকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর ইউনিয়নের নশিমপুর গরুর হাটের ইজারা এবং ভারতীয় গরু-মহিষের ব্যবসা নিয়ে নিহত আহাদ মিয়া ও একই এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ভারতীয় গরু-মহিষের রশিদ সংগ্রহ, পরিবহন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একসময় দুজন ব্যবসায়িক অংশীদার থাকলেও নশিমপুর বাজারের ইজারা নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এ কারণে আহাদ মিয়া বিকল্প বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ শুরু করলে নতুন করে আর্থিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে একাধিকবার সীমান্তে মালামাল আটকে যাওয়াসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, এসব ঘটনার ফলে আব্দুল আজিজ প্রায় দুই কোটি টাকার ঋণের বোঝায় পড়েন। স্থানীয়দের ধারণা, এই আর্থিক চাপ ও ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই আহাদ মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হতে পারে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগের রাতে আহাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরদিন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কালাটেক এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর দোয়ারাবাজার থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে প্রধান অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় অপরাধচক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।




