প্রযুক্তির ওপর অতিনির্ভরশীলতা থেকে বিরতি নেবেন যেভাবে
সিলেট আই ডেস্ক ::
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:২১ অপরাহ্ণ
আমাদের এই অস্থির আর দ্রুতগতির জীবনে প্রযুক্তি থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ প্রযুক্তি ছাড়া সময় কাটানোর প্রয়োজন উপলব্ধি করছেন। কেউ কয়েক ঘণ্টা, আবার কেউ কয়েকদিন প্রযুক্তি ছাড়া কাটানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন নিজের দিকে।
মিলেনিয়ালরা সম্ভবত শেষ প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তিহীন জীবনও দেখেছে, আবার প্রযুক্তিনির্ভর জীবনও দেখছে। জেন-জি প্রজন্মের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। তারা কখনোই প্রযুক্তি ছাড়া থাকেনি। বলা বাহুল্য, কর্মজগতে প্রভাবশালী এই দুই প্রজন্মই স্বীকার করে যে কাজ, দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক যোগাযোগসহ সবকিছুতেই তারা প্রযুক্তির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা প্রযুক্তি ছাড়া থাকলেই তারা বুঝে ফেলে, এই নির্ভরতা আসলে এক ধরনের আসক্তি।
সব সুবিধার পরেও প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে ক্লান্তিকর। কাজের অবিরাম নোটিফিকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘প্রাসঙ্গিক’ প্রমাণ করার চাপ, সব সময় ‘অন’ হয়ে থাকার তাগিদ এসব কিছু মানসিকভাবে অনেক ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। আমরা অনেক সময় এই চাপকে আধুনিক জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নিই। কিন্তু এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকি না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অতিমাত্রায় ডিজিটাল জীবনের অসহনীয়তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিংয়ের শিকার হওয়া, কর্মক্ষেত্রে বার্নআউট, বিষণ্ণতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
তাহলে উপায়? দীর্ঘদিনের চেনা এই জীবনধারা থেকে নিজেকে কীভাবে বের করবেন?
আপনি যদি উপলব্ধি করে থাকেন যে এত বিপুল মাত্রায় প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার জন্য ক্ষতিকর এবং এ বিষয়ে কিছু করতে চান, তাহলে ধরে নেওয়া যায় যে আপনি ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ডিটক্সের পথে হাঁটছেন। ৩০ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্সার ফারিহা তমা বলেন, ‘ছুটিতে গিয়ে ফোন হারানোর পর প্রথম বুঝতে পারি, আমার ক্লান্তির পেছনে মূলত প্রযুক্তিই দায়ী। ফোন ছাড়া সেই কদিন আমি খুব শান্তিতে কাটিয়েছি। ফোনটা ফিরে পাওয়ার পর বুঝলাম, আমি সেটি আগের মতো ব্যবহার করতে চাই না। ছবি তোলার জন্য বারবার ফোন বের না করেও দৃশ্য উপভোগ করা যায়, আর সারাক্ষণ গান শোনার বদলে মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায়।’
সেই সফরে তমা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বন্ধু আর স্মৃতি সংগ্রহ করেছিলেন। সাধারণ স্মারকের পাশাপাশি সঙ্গে করে এনেছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ জীবনবোধ।




