শায়েস্তাগঞ্জ থানায় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, বৈষম্যবিরোধী নেতার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) এক নেতার বাক্যবিনিময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট নেতা দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণেই বর্তমান প্রশাসন গঠিত হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে যাঁকে দেখা যায়, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান। ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে ওসির সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের দৃশ্য ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর এলাকা থেকে এনামুল হাসান নয়ন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, তিনি ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির একজন নেতা ছিলেন। পরে দুপুরে জেলা পর্যায়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা থানায় গেলে সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সীর মধ্যস্থতায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, এনামুল হাসান নয়ন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জুলাই আন্দোলনের সময় দল ছেড়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। শুরুতে ওসির কাছে বিষয়টি সুরাহার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় নয়নকে মুক্ত করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি ও মাহদী হাসানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় মাহদী হাসান প্রশ্ন তোলেন, কী কারণে এনামুলকে আটক করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি প্রশাসন গঠনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে এনামুলকে আটক করা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।




