সিলেট-৬ আসনে দুই প্রার্থীর দাবিতে বিএনপি বিব্রত, জেতার ছক জামায়াতের
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীকে ঘিরে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর বিএনপির দুই নেতা এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়ছল আহমদ চৌধুরী নিজেদের চূড়ান্ত প্রার্থী দাবি করায় এ বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। বিএনপির এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বিপরীতে নির্ভার ও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জোরালো প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রার্থী কোন উপজেলার কোন ইউনিয়নে সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করবেন, সে অনুযায়ী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির দলীয় প্রার্থিতার একটি চিঠি পেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন ফয়ছল আহমদ চৌধুরী। চিঠিটির ওপরের অংশে ‘সংযুক্তি-২’ লেখা ছিল। সেই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ফয়ছল আহমদ চৌধুরীর অনুসারীরা তাঁকে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করেন। অন্যদিকে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর অনুসারীরা পাল্টা প্রচারে ফয়ছল আহমদ চৌধুরীকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত ৩ নভেম্বর থেকে এমরান আহমদ চৌধুরী ছাড়া এ আসনে বিএনপির অন্য কোনো প্রার্থী প্রকাশ্যে প্রচারে ছিলেন না। শেষ মুহূর্তে ফয়ছল আহমদ চৌধুরীর চূড়ান্ত প্রার্থিতার দাবি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের। তাঁদের ধারণা, তাঁকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখতে দলীয় কৌশল হিসেবে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দৌলা হোসেন সুভাষ বলেন, দলের চূড়ান্ত প্রার্থী একজনই। তবে প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে ফয়ছল আহমদ চৌধুরীকে রাখা হয়েছে। এখন দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সবাই।
গত ৫ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের ফয়ছল আহমদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সংযুক্তি-২ চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়। দলের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
একই দিন সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণে মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন।
সিলেটে ওই মতবিনিময় সভায় সিলেটের পাঁচ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে এমরান আহমদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, দল থেকে যাঁরা পরে মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁরা বিকল্প প্রার্থী। কোনো কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হলে তখন বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন।





