পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ। গণপূর্ত বিভাগের ধীরগতির কাজ, শিক্ষক সংকট ও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটে হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারাও।
হাসপাতাল ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা বারবার আন্দোলনে নামলেও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। গত এক বছরে ক্লাস বর্জন ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, হাসপাতাল চালু না হওয়ায় প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। মেডিকেল শিক্ষায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অপরিহার্য হলেও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুরুতর শিক্ষক সংকট।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ জটিলতায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে কলেজে অধ্যাপকের ১২টি পদের মধ্যে ১০টি শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ২৫ পদের ১৭টি, সহকারী অধ্যাপকের ২৬ পদের ১৩টি এবং প্রভাষকের ২৮ পদের ৯টি পদ শূন্য রয়েছে। ডার্মাটোলজি, অর্থোপেডিক্স ও রেডিওলজি বিভাগে কোনো শিক্ষকই নেই।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাকিব বলেন, “গত বছরের এপ্রিলে আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেছিলাম। আশ্বাস পেয়ে ক্লাসে ফিরেছিলাম। কিন্তু এক বছরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। চারটি ব্যাচের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর ক্লিনিক্যাল ক্লাস দরকার। সদর হাসপাতালে রোগীর চেয়ে শিক্ষার্থী বেশি, শেখানোর মতো শিক্ষক ও পরিবেশ নেই।”
শিক্ষার্থীরা জানান, হাসপাতাল ভবন এখনও হস্তান্তর হয়নি। ভবন হস্তান্তরের পর জনবল ও সরঞ্জাম সংযোজনের বিষয় রয়েছে। ফলে কবে হাসপাতাল চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ইন্টার্নশিপ কোথায় হবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে একটি ব্যাচ।
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভির হোসেন বলেন, “শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ব্যবস্থাগুলোই নেই। যেকোনোভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষক সংকটের সমাধান চাই।”
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামসিয়া তাবাসসুম মাইশা বলেন, “শুরু থেকেই শিক্ষক সংকট চলছে। সদর হাসপাতালেও ক্লিনিক্যাল ক্লাসের উপযোগী পরিবেশ নেই। আন্দোলনের পর কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও কেউ যোগ দেননি, কেউ আবার পরে চলে গেছেন।”
একই বর্ষের শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “১৫ এপ্রিল থেকে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করি। ২০২৬ সালেও কোনো অগ্রগতি নেই।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হবে। ভবন হস্তান্তরের পর জনবল ও সরঞ্জাম সংযোজন প্রয়োজন হবে।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে কলেজে প্রায় ৫০ শতাংশ জনবল রয়েছে। বাকি জনবল নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এলপি গ্যাস ও অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ চলমান। এসব কাজ শেষ করতে আরও তিন মাস সময় লাগবে। তিনি গণপূর্ত বিভাগের কাজে ধীরগতির বিষয়টিও স্বীকার করেন।




