সিলেটে ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় দুই ভাই গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের ওসমানীনগর থানাধীন ৪নং বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়া হত্যা মামলায় দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের খোয়াজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আতর মিয়ার পুত্র মিজান মিয়া (২৮) ও মঞ্জু মিয়া (৩৩)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে গ্রেফতারকৃতদের ওসমানীনগর থানা পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকে গ্রেফতারকৃত দুই ভাইসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারকৃত মঞ্জু ও মিজান হত্যা মামলার ৬ ও ৭ নম্বর আসামি।
নিহত আতিক মিয়া এলাকায় একজন সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওসমানীনগরের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে তার আপন ভাই সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
র্যাব জানায়, মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৩১ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতঘরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে হামলাকারীরা। এ সময় তারা ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করে।
পরবর্তীতে সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়া ঘটনার সালিশ বিচারের জন্য সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়ার শরণাপন্ন হন। আতিক মিয়া বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে আতর মিয়ার বাড়ির উঠানে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে তিনি বিবাদীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং অন্যথায় পুলিশে সোপর্দ করার সতর্কবার্তা দেন।
সালিশ শেষে আতিক মিয়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিরাজনগরের দিকে রওনা হন। একই দিন বিকেলে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে আতর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।





