হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটের অঙ্ক পাল্টে দিচ্ছে বিদ্রোহ ও জোট রাজনীতি
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন নিয়ে সাধারণ ভোটার, রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির সিলেট মহানগর শাখার সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। আর এতেই ওই আসনে দল মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শেখ সুজাত। প্রথম ধাপে হবিগঞ্জের তিনটি আসনে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করলেও হবিগঞ্জ-১ আসন খালি রাখে দলটি। পরে ড. রেজা কিবরিয়া বিএনপিতে যোগ দিলে ওই আসনে দলটির প্রার্থী মনোনয়ন নতুন মোড় নেয়। শেষ পর্যন্ত রেজা কিবরিয়াকে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। ফলে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দেন শেখ সুজাত। এতে ওই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান।
সম্প্রতি নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিতু মিয়া সেন্টু পৃথকভাবে ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রেজা কিবরিয়াকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়। এ নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিবৃতিতে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ জনসমক্ষে আসে।
এদিকে, জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন মো. শাহজাহান আলী। তিনি বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের সন্তান। জামায়াতে ইসলামী হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) ও হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসন নিয়ে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট সমঝোতা করে।
বাকি দুই আসন হবিগঞ্জ-১ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী দেয় জামায়াত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর আসন হবিগঞ্জ-৩ এর পাশাপাশি ভোটের মাঠে হবিগঞ্জ-১ আসনের দিকে বিশেষভাবে নজর রাখছে জামায়াত। বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নিতে চাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী।
জানা গেছে, এই আসনে রেজা কিবরিয়া, শেখ সুজাত মিয়া ও শাহজাহান আলী- তিনজনই নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এতে আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নবীগঞ্জ পৌর শহরের বিএনপির কর্মী শরীফ হোসেন বলেন, দল বুঝে-শুনে যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তারা তাঁকেই ভোট দেবেন। কালিচুং গ্রামের শাহান মিয়া বলেন, এই এলাকায় বিএনপির যাঁরা নিবেদিত প্রাণ, তাঁদের দলীয় মনোনয়ন দিলে ভালো হতো। রেজা কিবরিয়াকে মনোনয়ন দেওয়ায় হতাশ হয়েছেন তাঁরা।
বাহুবল উপজেলার খালিদ মোশাররফ বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়। তাই এইবার জামায়াতে ইসলামীতে ভরসা করছেন এখানকার সাধারণ মানুষ।
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করায় মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ও জিতু মিয়া সেন্টুকে শোকজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়াকে দায়ী করেন। কিন্তু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তীব্র সমালোচনা করেন শেখ সুজাত মিয়া।





