চুনারুঘাটে নেই এসিল্যান্ড, সেবা বঞ্চিত মানুষ
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দু’মাসে জমা পড়া অন্তত ৮৫৫টি নামজারি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার গত বছরের ১৫ অক্টোবর যোগদান করলেও মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২১ অক্টোবর ছয় মাসের প্রশিক্ষণে চলে যান। এরপর থেকে কার্যত উপজেলা ভূমি অফিসে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রয়েছে। এতে নামজারি ছাড়াও আদালত-সংক্রান্ত মামলা, মিসকেসসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় অনেকেই জমি ক্রয়-বিক্রয় ও মালিকানা হস্তান্তর করতে পারছেন না। ফলে আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান মিলছে না। নুরুল হক, রাহাত সহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, অনেকদিন আগে জমি কিনেছি। নামজারি না হওয়ায় রেজিস্ট্রি করা জমি ব্যবহার করতে পারছি না। বারবার অফিসে এসে শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি। এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত তদারকি ও আইনগত পদক্ষেপের অভাবে অবৈধভাবে বালু ও মাটি কাটার ঘটনা বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে চুনারুঘাটে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ না দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারি ও মামলা নিষ্পত্তিতে জট তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, নামজারি কার্যক্রম বন্ধ নেই, নিয়মিতভাবেই তা চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে পৌরসভাসহ একযোগে চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। এর পাশাপাশি অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করতে হচ্ছে। তবুও জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে প্রায় ১০০টি নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। এলাকাবাসী দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





