হবিগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী
সিলেট আই নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনজুড়ে ব্যাপক নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতিবাহিত হয়েছে। সারাদিন ধরে নানা গুঞ্জন, আলোচনার পরও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড.রেজা কিবরিয়ার সাথে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন।
বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. রেজা কিবরিয়াকে মনোনয়ন দিলেও শেখ সুজাত মিয়ার নির্বাচনে অনড় থাকার কারণে দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নানা ধরনের চাপ ও অনুরোধ জানানো হলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি শেখ সুজাত মিয়া। এতে করে হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অপরদিকে, জোটগত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শাহাজাহান আলী আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী। জোটের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবরে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে করে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেখ সুজাত মিয়ার সাথে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার সাক্ষাৎ। তবে অনেকে বলছেন এটি ছিল কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ।
সবকিছু মিলিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক চিত্র ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠে থাকা, অন্যদিকে জোটগত সমঝোতা ও তৃণমূলের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণ কার্যকর হয় এবং এর প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে কীভাবে পড়ে, তা নিয়ে এখন এলাকাবাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।





