মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ পাচ্ছেন ধর্মেন্দ্র
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ঘোষিত হলো ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্ম সম্মান’। প্রতি বছরের মতো এবারও শিল্প, সংস্কৃতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবারের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে বলিউড ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা প্রয়াত ধর্মেন্দ্র সিং দেওলের নাম।
রূপালি পর্দায় ছয় দশকের রাজত্ব শেষে এই কিংবদন্তিকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই সম্মান এবার ধর্মেন্দ্রর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুকুটে যুক্ত করল এক নতুন পালক। এর আগে ২০১২ সালে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর ৯০তম জন্মদিনের প্রাক্কালে মারা গেছেন এ নায়ক । তার প্রয়াণের পর এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ভক্তদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। তারার মেলা পদ্ম সম্মানে ২০২৬ সালের পদ্ম সম্মাননা প্রাপ্তদের তালিকায় ধর্মেন্দ্র ছাড়াও নাম রয়েছে একঝাঁক তারকার।
‘পদ্মভূষণ’ পাচ্ছেন মালায়ালাম মেগাস্টার মাম্মুট্টি এবং সুরের জাদুকরী অলকা যাজ্ঞিক। অন্যদিকে ‘পদ্মশ্রী’র তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেতা আর মাধবন এবং ওপার বাংলার সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অভিনেতা সতীশ শাহ।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৫ জনকে পদ্মবিভূষণ, ১৩ জনকে পদ্মভূষণ এবং ১১৩ জনকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু চলতি বছরের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার তুলে দেবেন।
স্মৃতিতে অমলিন ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন কয়েক প্রজন্মের আইকন। ‘শোলে’র বীরু থেকে শুরু করে ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ কিংবা হাল আমলের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহিনি’- প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ছিলেন অনবদ্য। তার প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও, ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মাননা তাকে চিরকাল অমর করে রাখবে ইতিহাসের পাতায়।
তবে এই প্রাপ্তির আনন্দ ছাপিয়ে স্বামী ধর্মেন্দ্রর জন্য কিছুটা আক্ষেপ ঝরল বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও সাংসদ হেমা মালিনীর কণ্ঠে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বামীর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির খবর পান হেমা। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র এই সম্মানের যোগ্য ছিলেন আরও অনেক আগে।
এক সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী বলেন, ‘একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও ধর্মেন্দ্র ছিলেন অনন্য। ‘মানুষের বিপদে হাত বাড়িয়ে দেওয়া ছিল তার সহজাত প্রবৃত্তি। এই সম্মান তার প্রাপ্য ছিল ঠিকই, তবে তা পাওয়া উচিত ছিল আরও অনেক আগে।’
দেরিতে প্রাপ্তি নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন হেমা। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে আবেগঘন এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘চলচ্চিত্র জগতে ধরমজির অসামান্য অবদানকে সরকার মর্যাদা দিয়ে তাকে পদ্মবিভূষণে ভূষিত করায় আমি ভীষণ গর্বিত।’
ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক রূপালি পর্দায় ধর্মেন্দ্রর আধিপত্য ছিল আকাশছোঁয়া। কর্মজীবনের শুরুতে বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন পুরুষ হিসেবে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত হয়েছিলেন তিনি।
‘মশালাদার’ বাণিজ্যিক ছবিকে তিনি শিল্পের স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে অভিজাত মহল- সবার কাছেই তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়।
এমনকি সেই সময় তরুণীদের বইয়ের ভাঁজে তার ছবি থাকা ছিল এক নিয়মিত দৃশ্য। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য অর্জনে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন এই অভিনেতা। ৯৯১ সালে ‘ঘায়েল’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার, ২০২১ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০১২ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।




