সুনামগঞ্জে পিআইও’র বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
ধর্মপাশা - মধ্যনগর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সদস্য জানান, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলেও বিল উত্তোলনের সময় তিনি প্রতি লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। এ টাকা না দিলে বিলের ফাইলে স্বাক্ষর না করে বিভিন্ন অজুহাতে গড়িমসি করা হয়।
পিআইও মিজানুর রহমান ১০ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর পরিশোধের অজুহাত দেখিয়ে কৌশলে এই অর্থ আদায় করেন। কোনো পিআইসি উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ‘কাজে ত্রুটি রয়েছে’ এমন অভিযোগ তুলে বিল আটকে রেখে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে চারটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পিআইসিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় ৩২টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫১ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৬ টাকা। এছাড়া কাবিখা (নগদ) কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২১টি প্রকল্পে ৭০ লাখ ৭৭ হাজার ৬০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিখা কর্মসূচির আওতায় আরও ৭টি প্রকল্পে ৪২ দশমিক ১৮১২ মেট্রিক টন চাল এবং ৫টি প্রকল্পে সমপরিমাণ গম বরাদ্দ রয়েছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের অর্থ, পিআইসি’র নামসহ বিস্তারিত তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শনে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া অনুমোদিত প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পগুলো গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্প এখনও অসম্পন্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যারা উৎকোচ দিতে পেরেছেন তারা বিল উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন, আর যারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও পিআইসি সভাপতি জানান, প্রকল্পে ভ্যাট ও আয়কর প্রযোজ্য না থাকা সত্ত্বেও বিল উত্তোলনের সময় এসবের অজুহাতে তাদের কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান টাকা আদায় করছেন । তারা মনে করেন, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তারা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি এবং আমাদের অফিসের কেউ কোনো টাকা নেয় না। ধর্মপাশা হিসাবরক্ষণ অফিসার ১০ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়করের নামে টাকা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতিরা মাঝেমধ্যে আমাকে এবং ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানিয়ে থাকেন। আমরা বারবার বলার পরও তারা মাঝেমধ্যে ঝামেলা করে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এগুলো আমার কাজ নয়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-এর দায়িত্ব। ভ্যাট ও আয়করের নামে টিআর ও কাবিখা প্রকল্প থেকে আমার কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, এভাবে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





