নির্বাচনী আমেজে খড়া বইছে মৌলভীবাজার-৩ আসন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের ৪টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনটি হলো মৌলভীবাজার-৩ আসন। সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২১২ জন ভোটারের এ আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে যাওয়ায় নিরুত্তাপ হয়ে পড়েছে ভোটের মাঠ। দীর্ঘ কয়েক বছর মাঠ চষে বেড়ানো জামায়াতে ইসলামীর এ প্রার্থী জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়ায় বৃহৎ অংশের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী সেই আমেজে খড়া বইছে। ফলে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মোঃ সাইফুর রহমানের পুত্র কেন্দ্রিয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসের রহমানের পথ প্রায় পরিস্কার হয়ে গেছে।
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি’র নাসের রহমান, খেলাফত মজলিসের (১১ দলীয় জোটের) আহমদ বিলাল ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি’র জহর লাল দত্ত। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান।
রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইয়নিয়নের বেশ ক’জন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১ বছর ধরে আব্দুল মান্নান এই আসনের গ্রাম-গঞ্জে গণসংযোগ করেছেন। সমাজসেবামূলক কর্মকাÐের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তিনি মাঠে থাকলে দাড়িপাল্লার পক্ষে বিশাল একটি অংশের ভোট পড়তো। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নাসের রহমানের সাথে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মাঠে ছিলেন।
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে ‘১১ দলীয় জোটের’ আসন সমঝোতায় বড় পরিবর্তন আসে। জোটের কারণে জামায়াতকে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের এই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, এই আসনে জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়ায় জামায়াত প্রার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান’কে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন সাধারণ ভোটাররা তাকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখায় আব্দুল মান্নান শেষমেষ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি।
এদিকে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে যাওয়ায় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, লড়াই এখন পানসে হয়ে পড়েছে। জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আর সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৩ আসনে এখন বইছে ‘আমেজহীন’ নির্বাচনী হাওয়া।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের চুড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী আহমদ বিলাল প্রচারনার শেষ সময়ে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। মাঠে ময়দানে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়া এক ছাত্রনেতা বলেন, আব্দুল মান্নানকে বিএনপি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি ভেবে মাঠে সোচ্চার ছিলো। কিন্তু ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপির প্রার্থীর জোরালো প্রচারনা অনেকটা কমে গেছে। তারা নিশ্চিত বিজয় ধরে নিয়েছেন। তাই আগের চেয়ে নির্বাচনী আমেজ একদম কমে গেছে।
দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থীর মিডিয়া উইং খিজির মুহাম্মাদ জুলফিকার বলেন, আমরা মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনী আমেজ পূর্বের চেয়ে আরো বেড়েছে। আমরা আশাবাদী জোটের সহযোগী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা শীঘ্রই আমাদেরকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামবেন। তখন পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ আসবে। আমরা এটাও আশাবাদী মোঃ আব্দুল মান্নান ভাইয়ের ভোটাররা সবাই দেয়াল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিবেন। আমরা সবাই মিলেমিশে বিজয় ছিনিয়ে আনবো।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা হচ্ছে জোটের প্রার্থী থাকবেন একজন। সে হিসেবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জোটের শরিক দল হিসেবে আমরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী’র প্রচারণায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। কেন্দ্রের সহযোগিতায় আব্দুল মান্নানের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।




