সিলেট বিএনপির নেতাদের ঢাকায় উত্থান, মন্ত্রিসভায় মিলছে গুরুত্বপূর্ণ পদ
সিলেট আই ডেস্ক ::
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সিলেট অঞ্চলের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর কয়েকজন নেতা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছেন
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন কারা- এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা। আর সিলেটে আলোচনা হচ্ছে- কাদের জায়গা হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভায়।
ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন বলে সিলেটের কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। দলের হাইকমান্ডেও তাদের নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সিলেটে বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা এবং দলটির নেতাদের কয়েকজন এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তারা নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বেরনেজড়ে আসতে চেষ্টা করছেন তারা। এছাড়া কয়েকজনকে তারেক রহমান জরুরী তলব করে ঢাকায় নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার একটি খসড়া তৈরি করেছেন। এ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ নেতাদের সাথে আলাপ করেছেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতাদের বরাতে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী সভায় সিলেটের নেতাদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া থাকতে পারেন।
এদের মধ্যে ড. এনামুল হক চৌধুরী প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়, রেজা কিবরিয়া অর্থমন্ত্রণালয় ও ট্যাকনোক্রেট কোটায় হুমায়ন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে। গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ হয়ে নির্বাচনের পূর্ব মূহূর্তে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। দলে এসেই বাজিমাত করেছেন রেজা। নবীগঞ্জ-১ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। বাবার মন্ত্রণালয়েই তাকে দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে।
সিলেট-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন হুমায়ুন। পরে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তাহসীনা রুশদীর লুনা। আর হুমায়ুন কবিরকে দেয়া হয় পররাষ্ট্র বিষয়ক যুগ্ন মহাসচিবের পদ। নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই নেতাও ট্যাকনোক্রেট কোটায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সিলেট-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্ঠা ড. এনামুল হক চৌধুরী। নির্বােনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এবার ট্যাকনোক্রেট কোটায় তিনি মন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া সিলেট বিভাগের আরও কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। তাদের বেশিরভাগের নামই আলোচিত হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।
সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। জাতীয় রাজনীতিতেও এ আসনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া মুক্তাদীরও শিক্ষিত ও সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রিসভায় তার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটির টানা দুইবারের মেয়র আরিফ এবার লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ভোটের মাঠে ম্যাজিক ম্যান হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে এবার মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে আলোচনা চলছে।
সিলেট-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। দলীয় মনোনয়ন পান নি তিনি। তবে নির্বাচনে সিলেট জেলায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়ে বিএনপির বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারকে রহমান সিলেট সফরকালে কাইয়ুম চৌধুরীকে মূল্যায়নের আশ্বাস দেন। নতুন মন্ত্রিসভায় কাইয়ুম চৌধুরী ঠাঁই পেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জিকে গউছকে নিয়েও আলোচনা চলছে। গউছ বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তার নেতৃত্বগুণ বেশ প্রসংশা কুড়িয়েছে।
এছাড়া সিলেট-৫ আসনে হেরে যাওয়া বিএনপি জোটের সঙ্গী জমিয়ত নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও ট্যাকনোক্রেট কোটায় ধর্ম মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এরমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জরুরী তলবে সিলেট থেকে কয়েকজন নেতা ঢাকা গিয়েছেন। তাদের মধ্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, ড. রেজা কিবরিয়া, হুমায়ুন কবির প্রমুখ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন তার সবকিছুই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর নির্ভর করছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।




