সিরিয়ায় ব্যাপক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়ায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর দুই মার্কিন সেনা ও এক দোভাষী নিহত হওয়ার পর দেশটিতে আইএসআইএলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক এই হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। একই সময়ে ‘অপারেশন হকআই’-এর আওতায় বহু যোদ্ধা নিহত ও আটক এবং একাধিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিরিয়ায় আইএসআইএলের ৩০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী এই সংগঠনটির অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়।
সেন্টকম জানায়, ‘সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অবশিষ্ট অংশের ওপর অব্যাহত ও কঠোর সামরিক চাপ বজায় রাখতে’ সর্বশেষ হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঐতিহাসিক নগরী পালমিরার কাছে মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালায় আইএসআইএল। এতে সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান তোরেস-তোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম ন্যাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং মার্কিন বেসামরিক দোভাষী হিসেবে পরিচিত আয়াদ মানসুর সাকাত নিহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন হকআই’ শুরু করা হয়। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে এ অভিযানে ৫০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত বা আটক হয়েছে এবং আইএসআইএলের প্রায় ১০০টি অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
এছাড়া গত শুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনী সিরিয়া থেকে হাজারো আইএসআইএল বন্দিকে ইরাকে হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করে। সেখানে তাদের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে।
বাগদাদের অনুরোধে বন্দিদের ইরাকে পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন ধরে এ সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং তারা এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
অন্যদিকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আল-তানফ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনী নিয়েছে। বহু বছর ধরে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ ঘাঁটি ব্যবহার করছিল মার্কিন সেনারা।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসআইএলের ভৌগোলিক পরাজয় নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছিল। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং সম্প্রতি জানিয়েছে, এসডিএফের সঙ্গে তাদের জোটের মূল উদ্দেশ্য এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
আল-তানফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন দামেস্ক কর্তৃপক্ষ পুরো সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।




