বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব, সংরক্ষণ–সংকটে কৃষক
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের বানিয়াচং—যাকে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বলা হয়—সেখানে গত এক দশকে কৃষিতে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। একসময় এক ফসলি জমিতে আমন ও বোরো ধানই ছিল ভরসা। এখন সেই জমিজুড়ে মৌসুমি ও সারা বছরের নানা সবজির চাষ হচ্ছে। উপজেলা সদরের চারটি ইউনিয়নসহ ১৫টি ইউনিয়নেই ছড়িয়ে পড়েছে এই পরিবর্তন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় তারা ধান থেকে সরে এসে সবজিতে ঝুঁকছেন। এতে কৃষকের আয় বেড়েছে, পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও বিপণন ও সংরক্ষণ–সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিমাগার নেই, ক্ষতির শঙ্কা
প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজি পচনশীল হওয়ায় সময়মতো বাজারজাত করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়। উপজেলায় কোনো হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) না থাকায় অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় দাম পড়ে যায়। তাই জরুরি ভিত্তিতে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহায়তা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ
সরকারি বীজ, সার ও কীটনাশক সহায়তা বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কৃষক। তাঁদের দাবি, প্রকৃত কৃষকের বদলে প্রভাবশালীরা সুবিধা পাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও নিয়মিত নয় বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন কৃষক। ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকলেও তাঁদের অনেককে মাঠে দেখা যায় না—এমন কথাও শোনা গেছে।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, রবি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি
কৃষকেরা জানান, কিছুদিন আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বানিয়াচং সফর করেন। কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, কৃষির এই নীরব বিপ্লব ধরে রাখতে হলে সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি জরুরি। পাশাপাশি কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে উৎপাদনের সুফল টেকসই হবে না।




