সৌদিতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হবিগঞ্জের গৃহবধূ
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার চৌমুনি ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
আর্থিক সচ্ছলতার খোঁজে গিয়ে পারিবারিক অভাব-অনটন দূর করতে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন ওই নারী। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
এক অডিও বার্তায় নিজের করুণ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, এক মাস ধরে তাকে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার, চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমাকে যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ‘আবির ব্রাদার্স’ নামক রিক্রুটিং এজেন্সি এবং মাধবপুরের হরিনখোলা গ্রামের দালাল জহির মিয়ার মাধ্যমে ওই নারীকে রিয়াদে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠানোর সময় দালাল জহির মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন ওই নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিনিময়ে সে উল্টো পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করছে।
প্রাথমিক নির্যাতনের পর ভুক্তভোগী নারীকে রিয়াদের একটি বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে রয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেখানেও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, অভাবের তাড়নায় দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন আমার স্ত্রী মহাবিপদে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এজেন্সি ‘আবির ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সে ভালো না লাগার কারণে দেশে আসতে চাচ্ছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি কিছু হয়ে থাকে, সেটা এজেন্সির দোষ। অ্যামবেসির লোকদেরই তার খোঁজ রাখা উচিত।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





