সিলেটে ‘ফুড়ির বাড়ি’ ইফতারি : ঐতিহ্য না কুসংস্কার?
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
রমজান মাস এলেই সিলেটে নতুন জামাইয়ের জন্য শ্বশুরবাড়িতে ইফতার পাঠানোর পুরোনো রীতি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় ভাষায় পরিচিত ‘ফুড়ির বাড়ি ইফতারি’ নামে এই প্রথা শত বছরের ঐতিহ্য বলে দাবি করেন অনেকে। বিয়ের পর প্রথম রমজানে জামাইয়ের বাড়িতে সাধারণত তিন দফায় ইফতার পাঠানো হয়।
প্রথম রোজায় ঘরে তৈরি পিঠা-পায়েস, ফলমূল ও নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে জামাইবাড়িতে যান কনের পরিবারের সদস্যরা। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে আয়োজন হয় আরও বড় পরিসরে—মিষ্টি, জিলাপি, নিমকি, খাজা, পোলাও, চপ, বেগুনি ও মৌসুমি ফল দিয়ে সাজানো হয় বড় থালা বা ‘খাঞ্চা’। শেষ সপ্তাহে ইফতারের সঙ্গে যুক্ত হয় ঈদের কাপড় ও দাওয়াত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এটি ছিল মেয়ের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করার বহিঃপ্রকাশ। তবে সময়ের সঙ্গে রীতিটি অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে উঠেছে। সামর্থ্য না থাকলেও ‘সম্মান রক্ষা’র জন্য ধারদেনা করে ইফতার পাঠানোর ঘটনাও আছে।
সমাজকর্মী ও আলেমদের একাংশ এ প্রথাকে কুসংস্কার বা সামাজিক চাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভালোবাসা প্রকাশ বাধ্যবাধকতার বিষয় হতে পারে না। অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, চাপিয়ে দেওয়া নয়—সামর্থ্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পালন হলেই ঐতিহ্য মানবিক রূপ পেতে পারে।




