শায়েস্তাগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে জিয়া খাল,পুনঃখননের দাবি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
শায়েস্তাগঞ্জে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও কৃষি সেচের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত জিয়া খাল বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটের মুখে। অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, খালের দুই তীর ধীরে ধীরে ভরাট হচ্ছে, অনেক স্থানে খাল সরু নালার মতো পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য ফেলার কারণে পানিদূষণ বেড়ে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত দখলমুক্তকরণ, নিয়মিত খনন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক উদ্যোগ না নিলে জিয়া খাল পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. করম আলী জানান, এক সময় মাঘ–ফাল্গুন মাসে এ অঞ্চলের পুকুর, ডোবা ও খাল বিলের পানি শুকিয়ে যেত। নলকূপের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা ইরি বোরো ও মৌসুমী ফসলের সেচ থেকে বঞ্চিত হতেন।
১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শায়েস্তাগঞ্জে সরকারি সফরে আসার সময় খালের খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। স্থানীয় কৃষক ও মেহনতি মানুষের জন্য এটি আনন্দের এক মুহূর্ত ছিল। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম হয়ে খালটি সুতাং নদীতে সংযুক্ত হয়। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে এটি অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।
বর্তমানে খালের খনন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমি প্লাবিত করছে, যা কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, খাল পুনঃখনন করলে হাজার হাজার একর জমি সোনার ফসলে ভরে উঠবে, দূর হবে জলাবদ্ধতা এবং ফিরবে জীববৈচিত্র্য।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হোসেন বলেন, “বরাদ্দ সাপেক্ষে খালটি দ্রুত খননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






