তৃণমূলের ভোট নামে তামাশা বন্ধ হোক | Sylhet i News
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন



সিলেট আই নিউজ ::

প্রকাশ ২০২১-১২-২৭ ১৪:০৪:৩২
তৃণমূলের ভোট নামে তামাশা বন্ধ হোক

শেখ মোঃ কাওছার আলী: দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের ভোটের নামে যে তামাশার প্রথা সৃষ্টি হয়েছে এটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দরকার। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে দলের নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা নির্বাচন করা দূরের কথা সংগঠন করতেও উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তাছাড়া এরকমটা করার কারণে দলের মধ্যে যে বিভেদ/কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে এ থেকে কি বেরুনো সহজ কাজ হবে?

তাছাড়া সাধারণ ভোটারের মতো যেভাবে দলীয় পদবীধারীরা টাকা খেয়ে ভোট বিক্রি শুরু করেছে এতে করে দলের ক্ষতি ছাড়া লাভ হচ্ছে না।

এই টাকা খাওয়া শেখানো এবং সঠিক প্রার্থী বাছাই না হওয়ার পেছনে মূলত দলই দায়ী।

এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া জরুরি। সহসা যদি এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া না যায় তাহলে দলের অস্তিত্ব থাকবে বলে মনে করি না। দলের বৃহৎ স্বার্থে এ থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ।

আওয়ামী লীগ যদি দলের ভালো চায় এবং নির্বাচনে নৌকার সঠিক মাঝি বাছাই হোক চায় তাহলে এই ভোট পন্থা বদল করতে হবে।

এ ব্যাপারে আমার প্রস্থাব হচ্ছে, আগে থেকে কোনো কাউন্সিলর বা ভোটার ঠিক না করে যে দিন কাউন্সিল বা তৃণমূলের ভোট হবে সেদিন উপস্থিত দর্শক সারি থেকে কমপক্ষে ১০০জন লোককে আলাদা করে তাদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে। তারপর এই ১০০ জনকে ভোটার ঘোষণা করতে হবে। তারপর এই ১০০জনকে চাইলে পুরাপুরি রাখতে পারে আবার না ও পারে। তবে কিছুটা ছোট করা হলে ভালো হবে। তখন পুরা না রেখে সবার উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ৫০ অথবা ২৫/৩০ জনকে বাছাই করতে হবে। তবে ৫০জন রাখা হবে উত্তম। আর এরা হবে প্রকৃত তৃণমূল। কারণ এরা দলীয় কোনো পদে আছে কি নাই সেটা তখন বিবেচ্য বিষয় হবে না। জেলা বা কেন্দ্রের লোকও বলতে পারবে না পদবীধারী কেউ আছে। ভাগ্যক্রমে যদিও পদবীধারী কেউ ভোটার হয়ে যেতে পারে তবে এসময় সবাই দর্শক। টাকা খাওয়ার তেমন সময় সুযোগ পাবে না। আর খেলেও দু একজনের বেশি কেউ হবে না আর রেটটাও শ'পাচেকের বেশি যাবে না।

তারপর জেলা বা উপজেলার নেতৃবৃন্দ অমুক অমুক প্রার্থী এদের থেকে একজনকে আপনারা ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থী নির্বাচিত করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে তাদের সাথে প্রার্থীকে পরিচয় করে দিলেন। এরপর লটারির মাধ্যমে বাছাই হওয়া ৫০/১০০জন লোক তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে দিয়ে নির্বাচিত করলো। এই নির্বাচনে যে জয়ী হবে তার উপর আপনারা পূর্ণ আস্থা রেখে নির্ধ্বিদায় তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেন।

এতে করে বাছাই সঠিক হয়নি বলে কেউ প্রশ্ন উত্তাপন করতে পারবে না। এরকমটি করা হলে দল শতভাগ যদি সফল না ও হয় তবুও পঁচানব্বই ভাগ সফল হওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারি। আর দলীয় বিভেদ বা কোন্দল সৃষ্টি করার সুযোগ থাকবে না। কারণ পরাজিত প্রার্থীরা বুঝবে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতা নেই। তখন দেখবেন দলের বিদ্রোহী হয়ে কেউ আর নির্বাচন করছে না।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক: বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা বিশ্বনাথ উপজেলা শাখা।

এমএনআই

ফেসবুক পেইজ