সিলেট ওসমানী হাসপাতাল নিজেই রোগী! | Sylhet i News
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন



নিজস্ব প্রতিবেদন ::

প্রকাশ ২০২২-০১-২৪ ১২:০৫:১৭
সিলেট ওসমানী হাসপাতাল নিজেই রোগী!

সিলেটের প্রায় দেড় কোটি মানুষের সরকারিভাবে উচ্চ চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে সব সময়ই ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বেশি রোগী নিয়েই দিতে হয় চিকিৎসা। রয়েছে লোকবল সংকটও। ১৯৯৮ সালে হাসপাতালটিকে পাঁচশ’ থেকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী বাড়েনি জনবল। মাত্র ২২৫ জনের মতো চিকিৎসক আর ৮৮১ জন নার্স দিয়েই সেবা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। 

এমনকি হাসপাতালে ডিসপেনসারির জন্য অনুমোদিত ১৭ জন লোকবল থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৩ জন। সংকট আছে রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনিশিয়ানেরও। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মেরামতে কোনো প্রকৌশলী না থাকায় নষ্ট হলে টেন্ডার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মেরামত করতে হয়। এতে ছোটখাটো একটি ত্রুটি সারাতেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় চলে যায়। ফলে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা। 

সেই সঙ্গে সময়ের পরিক্রমায় রোগীর সংখ্যা বাড়লেও খাবার আসে মাত্র ৯০০ জনের। 

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৯ শত শয্যার ওসমানী হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিলেন দুই হাজারের অধিক। কেবল তাই নয়, হাসপাতালটির 

সরেজমিনে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, সব ওয়ার্ডেই শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগী  মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কোনো কোনো ওয়ার্ডের বাইরেও রোগীদের মেঝে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

কর্তৃপক্ষ দাবি করে বলেন, অনুমোদিত ৯০০ জনের খাবার সরকার থেকে দেয়া হলেও বাকি সব রোগীর খাবারের বন্দোবস্ত হয় হাসপাতাল থেকে। এমনকি গত প্রায় ১০ বছর আগে জনপ্রতি ১২৫ টাকা খাবারের জন্য নির্ধারিত হলেও সরবরাহকৃত খাবারের তুলনায় এ বরাদ্দ সীমিত।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, জনপ্রতি দৈনিক ১২৫ টাকা দিয়ে বর্তমান বাজার মূল্যের হিসাবে সকালে পাউরুটি, ডিম, দুধ, কলা, দুপুরে সবজি, মাছ ডাল ও রাতে মাছ কিংবা মাংস, সবজি, ডাল-ভাত সরবরাহ করা কঠিন। 

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, যত কিছুর চাহিদা রয়েছে সব কিছুর জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সীমাবদ্ধতার মাঝেও চেষ্টা করা হচ্ছে সেবা দিয়ে যাওয়ার। সে ক্ষেত্রে সংকট দূর করা সম্ভব হলে ভালো সেবা দেয়া সম্ভব। সরকার থেকে ৯০০ জনের খাবার সরবরাহ থাকলেও হাসপাতাল তহবিল থেকে সব রোগীকেই খাবার দেয়া হয়।

আইনিউজ/জেইউ

ফেসবুক পেইজ