বিএনপি নেতার বাসায় বোমা হামলা তদন্ত শুরু | Sylhet i News
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন



আই নিউজ ডেস্ক ::

প্রকাশ ২০২২-০৫-০৮ ০৭:৩৬:৩৯
বিএনপি নেতার বাসায় বোমা হামলা তদন্ত শুরু

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের রাজশাহীর বাসায় বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপি নেতা শাহীন শওকত নিজেই আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি আকারে রেকর্ড করেছে। শুক্রবার দুপুরের এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। ওসি আরও বলেন, বিএনপি নেতা সৈয়দ শাহীন শওকত একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তবে বাড়িতে বোমা হামলার অভিযোগ করলেও কাউকে নির্দিষ্ট করে দায়ী করা হয়নি অথবা আসামি করা হয়নি। এ জন্য অভিযোগটি জিডি আকারে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ হামলায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। এ বাড়িটিসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বোমা নিক্ষেপকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে আরএমপির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে প্রাথমিক তথ্যে পুলিশ ধারণা করছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিএনপি নেতা শাহীন শওকতও প্রাথমিকভাবে তেমন আশঙ্কার কথা মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অভিযোগে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ মে) দুপুর দেড়টার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি বিএনপি নেতা শাহীন শওকতের রানীনগর মোন্নাফের মোড় এলাকার বাসভবনে একটি হাতবোমা ছুড়ে মারে। এটি বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় ব্যালকনির দেওয়ালে আঘাত করে। এ সময় বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতা শাহীন জানান, তিনি ঘটনার সময় জুমার নামাজ পড়তে মহল্লার জামে মসজিদে ছিলেন। মসজিদ থেকেই তিনি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পান। নামাজ শেষে ছুটে এসে দেখেন তার বাসার দ্বিতীয় তলায় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে দেওয়ালে থাকা একটি প্ল্যাস্টিকের পাইপ ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেছে। দেওয়ালেও বিস্ফোরণের ক্ষত আছে। পুলিশ ঘটনার পর আলামত সংগ্রহ করেছে। শাহীন জানান, তিনি মাঝে মাঝেই তার বাসার দ্বিতীয় তলার ব্যালকনিতে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। আবার বিশ্রাম করেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ বোমা হামলা বলে তিনি মনে করছেন। ঘটনার সময় তার ফুফু ও মেয়েসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাসায় ছিলেন। বোমা হামলার ঘটনার পর তারাও আতঙ্কে আছেন। দলীয় একটি সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর ১০ ডিসেম্বর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডভোকেট এরশাদ আলি ইশাকে আহ্বায়ক ও মামুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় কেন্দ্র থেকে। গত ৫ মার্চ ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের অনুসারীরাও এই কমিটিতে জায়গা পাননি। এ নিয়ে গত কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিতে মিনু, বুলবুল ও মিলনের অনুসারীরা অনুপস্থিত থাকছেন। মাঝে মাঝেই তারা ক্ষোভ জানাচ্ছেন বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে। সূত্রগুলো জানায়, মিনু, বুলবুল, মিলন ও তাদের অনুসারীদের মহানগর কমিটিতে পুরোপুরি মাইনাসের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। এ কারণে তিনি অন্যদের লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারেন। শাহীন শওকত অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও রাজশাহী মহানগর বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো নিন্দা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কোনো নেতাও ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে ঘটনার নিন্দা করেননি। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

.

ফেসবুক পেইজ