শ্রীপুরে পাথরখেকোদের হানা | Sylhet i News
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন



জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :>

প্রকাশ ২০২২-০৫-১৩ ০৭:৪২:২৮
শ্রীপুরে পাথরখেকোদের হানা

জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারি শ্রীপুর। সরকারি নির্দেশে গত চার বছর ধরে কোয়ারিতে পাথর না থাকায় সরকার স্থায়ীভাবে ইজারা বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে শ্রীপুর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ।

কিন্তু এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে একটি চক্র। চক্রটি কোয়ারির ১২৮০ নম্বর সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তর থেকে পাথর সংগ্রহ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে পাথর উত্তোলন কাজে কয়েক শ শ্রমিকদের দেখা মিলে। তাঁরা বড় বড় গর্ত করে জিরো লাইন থেকে পাথর উত্তোলন করছেন। শ্রমিকেরা জানান, তাঁরা বড় বড় মহাজনের নির্দেশে এবং জীবিকার তাগিদে সীমান্তের জিরো লাইন থেকে পাথর উত্তোলন করছে। তাঁরা নৌকা সিঙেল পাথর উত্তোলন করেন ৮০০ টাকায় ও বোল্ডার পাথর উত্তোলন করেন ১৬ টাকায়।

পাথর সংগ্রহের পর সন্ধ্যায় নৌকায় আসামপাড়া ও ৪ নম্বর বাংলাবাজারে নিয়ে যায় আরেকটি দল। নৌকা প্রতি ৮০০ টাকা করে দুটি ক্যাম্পের জন্য পাথরখেকোরা ১৬০০ টাকা পরিশোধ করে বলে শ্রমিকেরা জানান। স্থানীয়, জাতীয় ও অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কিছুদিন শ্রীপুর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকে।

গত পবিত্র রমজান মাসে আবার শ্রীপুর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হলে দিনের বেলায় পাথর পরিবহন বন্ধ রাখা হয়। কিছু শ্রমিক কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করতে গেলে বিজিবি বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে বিজিবির পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আহত হন।

ঘটনার মাস পার হতে না হতে শ্রীপুর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করছে চক্রটি। বৃষ্টি ও নদীতে পানি থাকায় দিনের বেলা সীমান্ত এলাকায় সাধারণত কেউ সহজে ঘুরতে যায় না। এই সুযোগে পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা ১২৮০ সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে দিনের আলোতে পাথর সংগ্রহ করে রাখে। রাত ১০টা বাজলে সংগ্রহ করা পাথর নৌকায় করে নিয়ে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন মিয়া, কবির হোসেন, মাসুক আহমদ, নজির মিয়া, কালা মিয়া, সুলেমান আহমদ, রশিদ আহমদ, ইসমাইল আলী, নুর হোসেন, আব্দুল করিম বলেন, শ্রীপুর কোয়ারি থেকে ১০ / ১২ দিন ধরে পুনরায় পাথরখেকোরা দিনে পাথর সংগ্রহ করে রাখে। রাত হলেই নৌকায় পাথর পরিবহন করে। বিজিবিকে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিজিবির শ্রীপুর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুর রহিম বলেন, ‘বিজিবি নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে পাথর আনার সুযোগ নেই।’

জৈন্তাপুর ইউএনও আল বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুদিন পূর্বে সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পাথরখেকোদের এভাবে পাথর জামা রাখার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আইনিউজ/এসএম

ফেসবুক পেইজ