রাজস্ব আদায়ে সরকারকে ফেইসবুকে নজরদারি বাড়ালে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে | Sylhet i News
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন



মোঃ লুৎফুর রহমান

প্রকাশ ২০২২-০৬-১০ ০৪:৫৮:১৬
রাজস্ব আদায়ে সরকারকে ফেইসবুকে নজরদারি বাড়ালে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে


যাদের ফেইসবুক পেইজ অথবা পেইজবুকে আইডি আছে তারা প্রতিনিয়ত তাদের জীবনের প্রতিটা কথা ফেইসবুক পোস্টে লিখতেছেন। তাদের নিজের নামে জায়গা-জমি, অর্থ-সম্পদ কোথায় কি আছে তা ফেইসবুকের মাধ্যমে বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করতেছেন। তারা দেখাচ্ছেন তারা বিরাট সম্পদশালী, তাদের শহরে দুই -তিনটা বাড়ি, বিরাট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, আছে গাড়ি কিন্তু তারা জানেনা এর জন্য সরকারকে ভ্যাট বা ট্যাক্স দিতে হয়। যেহেতু তারা তাদের নিজের ফেইসবুক পেইজ বা ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে তাদের সম্পদের বিবরণ ও তাদের ইনকাম সেচ্ছায় প্রকাশ করতেছেন সেহেতু তাদের নামে যে এই সম্পদ গুলো যা তারা বৈধ বা অবৈধ পন্থায় অর্জন করেছেন তা অস্বীকার করতে পারবেন না কারণ ফেইসবুকের পোস্টের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।  দেশের আয়কর অফিস, ভ্যাট অফিস ও রাজস্ব আদায়কারী অন্যান্য সরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দেশের সামাজিক মাধ্যমগুলিতে নজর রাখার জন্য সরকার যদি নির্দেশ দেন তাহলে দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। রাজস্ব কর্মকর্তারা ফেইসবুক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ঠিকানায় গিয়ে তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপর সরকারের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তা সরকারের নজরে রাখা উচিৎ। 

অনেক পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কথা প্রকাশ করা হচ্ছে, সেই দিকেও সরকারের নজর দেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।  সরকারের একটা বড় আয়ের খাত হল রাজস্ব আদায়। রাজস্ব আদায়ে অবহেলার বা ঘুষ গ্রহণের সংবাদ পেলেই সরকারকে সেই সমস্ত অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ তাহলে শাস্তির ভয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ গ্রহণের প্রবনতা এবং দায়িত্বে অবহেলা কমে আসবে। অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যতই ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হোক না কেন তারা কখনো জনগণের চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাই যখনই সরকার এই অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দমন করতে বাধার সম্মুখীন হবে তখনই সরকারকে জনগণের সাহায্য চাইতে হবে। জণগণ যখন এই অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে তখনই সরকার তাদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে কারণ জণগনের অভিযোগ ও তাদের দেয়া প্রমাণপত্র হবে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ।  যদি কর ফাঁকিবাজ ও রাজস্ব আদায়কারী অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকে তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।

অনেকেই তাদের আলিশান বিল্ডিং, জায়গা-জমি ক্র‍য়ের ছবি, ব্যবসায়-বাণিজ্যের ছবি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে। তা প্রমাণ স্বরুপ থেকে যায় তাদের আইডিতে। সরকার ইচ্ছা করলে সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমগুলিতে নজরদারি রাখার জন্য প্রতিটি রাজস্ব আদায়কারী অফিসে একজন কর্মকর্তাও নিয়োগ দিতে পারেন। দুর্নীতি কমাতে এই পদ্ধতি হতে পারে একটা মারাত্মক হাতিয়ার।  তাই আমার মনে হয় সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য এই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমগুলিতে চোখ রাখা উচিৎল।  


লেখকঃ মোঃ লুৎফুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, মিরপুর ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, বাহুবল, হবিগঞ্জ। 

[email protected]


আই নিউজ / এপি

ফেসবুক পেইজ