বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন



Repoter Image

মোঃ লুৎফুর রহমান

প্রকাশ ০৯/০৫/২০২৩ ০৫:২৮:৫০
প্রতীকী ছবি

যেখানে বিশ্ব; দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, দুর্নীতিকে অনেক পিছনে ফেলছে, আর আমরা দুর্নীতিকে কোন ভাবেই কমাতে পারছিনা। দুদকের কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের বিশাল অভিযোগের স্তুপ, লোকবলের অভাবে এই বিশাল অভিযোগের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। সরকারের প্রতিটি কার্যালয়ে জনবলের অভাব।  দুদকের কাছে জনগণের যে অভিযোগ জমা পড়েছে, আইন করে যদি সেগুলো পুলিশের ডিপার্টমেন্টে দেয়া যেত তাহলে দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করার আগে শতবার ভাবত। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু দু:খ করে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা সব নিয়ে গেছে; কিন্তু এ চোরগুলো রেখে গেছে আমার কাছে।


বর্তমানে কোটি কোটি মানুষের মাঝে হাতেগুণা কয়েকজন দেশ প্রেমিক পাই যারা দেশের কল্যাণে দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। দেশে এমন আইন নেই যার মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের সহজভাবে আইনের আওতায় আনা যাবে। দেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে আগে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে কিন্তু এই প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা কঠিন। যদি এমন আইন থাকত, যে কেউ দুর্নীতি করুক, দেশের জনগণ বা সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রমাণপত্র ছাড়াই জেলা জজ কোর্টে ঐ দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে আদালতের সহযোগিতা নিয়ে খুব সহজেই প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে পারতেন তাহলে দুর্নীতিবাজরা ভয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে ছেড়ে দিত। 


বর্তমানে  ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন, যিনি হবিগঞ্জ তথা সিলেট বিভাগের সন্তান, উনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফেইসবুক পেইজে লাইভ দিচ্ছেন। অনেকেই দুর্নীতিবাজদের ভয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেনা। এখনও সময় আছে এই দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার ক্ষমতা জনগণের হাতে দেয়া দরকার।  দুর্নীতিতে আমরা কত নাম্বারে আছি তা আমরা অনেকেই জানি। 


মানুষের মাঝে এখন নীতি নৈতিকতা নেই বললেই চলে। সরকারি ডিপার্টমেন্টে  যেকোনো কাজ  করাতে হলে ঘুষ লাগে, সরকারি অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। বিমানবন্দরে প্রবাসীগণ ভালো সেবা পাচ্ছেনা, ভূমি অফিসে নামজারি করতে লাগছে ঘুষ, অনেক সরকারি অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ হচ্ছেনা। তাই মানুষের মাঝে নীতি নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে হলে তাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। প্রত্যেক ধর্মেই পাপ করলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে, এই শাস্তির কথা তাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ছয় মাসে একবার নৈতিকতার বিষয়ের উপর একটা সেমিনারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সেমিনারে প্রত্যেক ধর্মের ধর্মীয় গুরুর মাধ্যমে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই দুর্নীতিবাজরা ধর্মীয় ভয়ে দুর্নীতি থেকে অনেক দূরে থাকার চেষ্টা করবে। 


দেশের দুর্নীতি রোধ করতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে আইনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা চাই। শিক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা আইন সম্পর্কে জানবে এবং আইনে তাদেরকে কি কি অধিকার দেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। শুধু আইনজীবীদের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের বুদ্ধি বিবেক প্রয়োগ করে আইনগত সহযোগিতা পাবে। দেশ তাদের কি কি সাংবিধানিক অধিকার দিয়েছে তা জানতে পারবে। 


এটা আমার অনেক অভিজ্ঞতাপূর্ণ লেখা। আমি সরকারি অনেক ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাইনি।  সংবিধান সংশোধন করে যদি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট  এর শাখা যদি প্রতিটা বিভাগে দেয়া যেত তাহলে সহজে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পেতে রিট করতে পারত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বাংলার মাটি থেকে চোরাকারবারি, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করতে হবে।  যারা দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি রোধে দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকুরিজীবীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অল্প শাস্তি দিয়ে তাদের বাঁচিয়ে দেয়াও আরেক ধরনের দুর্নীতি, এতে এই অসাধু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ  অল্প শাস্তি পেয়ে আরো বড় ধরনের দুর্নীতি করতে সাহস পায়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে, আইনের ফাঁক রেখে যে মান্দাতার আমলের আইন রয়েছে সেগুলি বাদ দিয়ে বা সংশোধন করে আইন শক্তিশালী করা চাই। সরকারি চাকুরিজীবীদের বিচারের ক্ষমতা বিচার বিভাগের হাতে ন্যাস্ত করলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে। 


মো: লুৎফুর রহমান 

সহকারী শিক্ষক মিরপুর ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, বাহুবল, হবিগঞ্জ। 



সিলেট আই নিউজ / একে

মাই ওয়েব বিট

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর মনিটরিং করার জন্য এটা ব্যবহার করতে পারেন, এটি গুগল এনালাইটিক এর মত কাজ করে।

ফেসবুক পেইজ