সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:০৫ অপরাহ্ন



Repoter Image

আই নিউজ ডেস্ক ::

প্রকাশ ২০২৩-১১-১৮ ০২:২৩:১৯
হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ: কমতে পারে প্রকল্প, ৮ কর্মকর্তা বদল

গত বছর টেকসই কাজ হওয়ায় এবং বর্ষাকালে বাঁধ কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সংখ্যা কমতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে সার্ভে টিমের জরিপ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সংখ্যাটি বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যেই বাঁধের কাজের জন্য ৯০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৯৫টি হাওরে প্রতিবছর আড়াই লাখ হেক্টরের মতো জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। এসব হাওরে বেড়িবাঁধ আছে ১ হাজার ৭১৮ কিলোমিটারের মতো। পাউবো কাজ করে ৪০টি হাওরে। এসব হাওরের মধ্যে যেসব এলাকায় বাঁধ ও ক্লোজার অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব এলাকা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প প্রণয়ন করবে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে বাঁধের কাজে গতিশীলতা বাড়ানো এবং অনিয়ম ঠেকাতে পাউবোর ৮ উপজেলার শাখা কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে পাউবোর অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়েছে।

জেলা পাউবো সূত্রে জানা যায়, কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধের জরিপ চলছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার বাঁধের জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। জরিপ ও বাঁধ বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন করতে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত পাউবোর ২১ জন সার্ভেয়ার, ১২ জন কার্যসহকারী ও ১৩ জন এসও অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়েছে। জেলার শাল্লা, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার শাখা কর্মকর্তা পরিবর্তন করে এসব উপজেলায় নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আটজনকে।

গত বছরের মতো চলতি মৌসুমেও বাঁধের কাজ সময়মতো শেষ করতে ইতিমধ্যে সভা করেছে জেলা কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটি। বাঁধের কাজ বাস্তবায়নে এবার কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হবে না বলে সভায় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন কমিটির সভাপতি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।

এদিকে বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে পাউবোর কর্মকর্তাদের পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘পাউবো যে আট কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করেছে, তার জন্য সাধুবাদ জানাতে হয়। কারণ এই এসওরা একই উপজেলায় বছরের পর বছর থেকে এলাকার প্রভাবশালী মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন, যার ফলে দুর্নীতি হয় বেশি, তাই পরিবর্তনটা প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া পাউবোর যে জরিপ টিম কাজ করছে, সেটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেলে বাঁধের কাজের আসল চিত্র ফুটে উঠবে। এখন পর্যন্ত ৯০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শুনেছি।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘মাঠে জরিপ দল কাজ করছে। জরিপ অনুযায়ী বাঁধের কাজ শুরু হবে, যেহেতু গত বছর আমরা ভালোভাবে বাঁধের কাজ শেষ করেছিলাম। তাই এবার আশা করি প্রকল্প আগের তুলনায় কমবে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘জেলা কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় জানিয়ে দিয়েছি এবার কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেয়া হবে না। সেই সঙ্গে বলেছি, বাঁধের কাজে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে।’-আজকের পত্রিকা

সিলেট আই নিউজ / এসএম

ফেসবুক পেইজ