গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদন: সিলেট-৩ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পাচ্ছেন হাবিব | Sylhet i News
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

সিলেট আই নিউজ ::>>

প্রকাশ ২০২১-০৮-১৮ ১৩:৩৯:১৩
গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদন: সিলেট-৩ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পাচ্ছেন হাবিব

রিসার্চ ফর ইন্টারনাল পলিটিক্স এন্ড রোরাল ডেমোক্রেসি ডেভোলাপমেন্ট বাংলাদেশ (RIPRDDB) এর ইদানিংকালের এক গবেষণা জরিপের সর্বশেষ তথ্যমতে আসন্ন সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা প্রতিক নিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে।

তাদের সামগ্রিক গবেষণায় উঠে এসেছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটার অধ্যুষিত সিলেট -৩ আসন মূলত তিনটি উপজেলা বেষ্টিত যথাক্রমে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। এখানে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মূলত সিলেট সিটি কর্পোরেশন ঘেঁষা একটি শহরমূখী এলাকা, আর পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ হলো শিল্পাঞ্চল এবং বালাগঞ্জ হলো কৃষি নির্ভর ও প্রবাসী অধ্যুষিত। তাই এই আসনে মূলত সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী দীর্ঘ একযুগ ধরে ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি টানা ৩ বার এই এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ হিসেবে বিদ্যমান থাকায় নিজ দলের বঞ্চিত অন্য প্রার্থীরা দীর্ঘদিন নতুন নেতৃত্বের আশাবাদী ছিলেন। আর এরই অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন দল তরুণ নেতৃত্বের কাছে নৌকা তুলে দিয়ে বাজিমাত করার কৌশল হাতে নিয়েছে।

তাছাড়া হাবিবুর রহমান তিনি নিজেও অত্যন্ত গোছালো একটি নির্বাচনী আবহ তৈরী করেছেন। একদিকে প্রায় ২৫ জন প্রার্থীকে পেছনে ফেলে নৌকা প্রাপ্তির রসায়নে তিনি যুক্তরাজ্য রাজনীতির শীর্ষ বেশ কয়েকজন আওয়ামী রাজনীতিবীদের মতো নিজের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, হাবিবুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, তাঁর মেয়ে টিউলিপ, আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দীন খান সহ কয়েক ডজন শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রথম পছন্দের তালিকায় ছিলেন। আর এজন্যই ডিজিএফআই, এনএসআই সহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও তৃণমূল দলীয় ফোরাম সহ বেশিরভাগ দলীয় টেকনিক্যাল জরিপে হাবিব এগিয়ে গিয়েছিলেন।

এদিকে হাবিবুর রহমান নির্বাচনী টিকেট পাওয়ার পর প্রথম দিকে বেশ দলীয় অন্তর্কোন্দলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু অত্যন্ত প্রতিভাবান হাবিব প্রত্যেকটি নির্বাচনী সভা, নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা, সংবাদ সম্মেলন এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যাপারে কথা বলার সময় বেশ সতর্ক ও সংযমী হতে দেখা গিয়েছে। তিনি দলের অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে যুগপৎ ভাবে সমন্বয় সাধন করতে পেরেছেন।

তার প্রত্যেকটি দলীয় ফোরামের কার্যক্রম জেলা নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে এবং প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ইউনিটের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে হাবিবুর রহমান হাবিবের বেশির ভাগ জনসভা লোকে লোকারণ্য ছিল। তিনি নৌকাযোগে বালাগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন, তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ চা শ্রমিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আর সাধারণ ভোটারের কাছে রীতিমতো দল মতের উর্ধ্বের একজন প্রার্থী হতে পেরেছেন বলে অনেক বিশিষ্টজন মনে করছেন।

তাছাড়া হাবিবুর রহমান তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিকের অতীত স্থান বদলের রাজনীতি,জাতীয় পার্টির একাংশের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জাতীয়পার্টির নিজ দলের সুসংগঠিত কর্মী সমর্থকের অভাব সহ নানা কারণে পিছিয়ে থাকায় এর সুফল কিন্তু হাবিব সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে হাবিবের জয়ের নিশ্চয়তার জরিপের অন্য একটি কি পয়েন্টে (Key Point) বলা হয়েছে-আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সাংসদ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত শফি আহমদ চৌধুরী এবং আতিকুর রহমান পাশাপাশি এলাকার হওয়ায় তাদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির একটা সমূহ কারণ রয়েছে। আর শফি চৌধুরী বিএনপির জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে উদাসীন বক্তব্য ও শরীক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিষোদগার করায় এখানে বিএনপি ও জামায়াতের ভোটগুলো কয়েকভাগে বিভক্ত হবে বলে গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে। তবে শফি চৌধুরী নিজের পূর্বের কর্মগুণে কিছু ভোট পেলেও তিনি বেশিরভাগ বিএনপি জামায়াতের এক্টিভ ভোটারদের কাছে বিষফোঁড়া হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। আর জাতীয়পার্টির আতিক হয়েছেন নিজ গৃহে পরবাসী। এদিকে আতিকের নির্বাচনী কর্মসূচিতে জনমানবের অনেকটা সমাগম থাকলেও শফি চৌধুরী কোনোমতেই জমাতে পারছেন না।

তাই রিসার্চ ফর ইন্টারনাল পলিটিক্স এন্ড রোরাল ডেমোক্রেসি ডেভোলপমেন্ট বাংলাদেশ (RIPRDDB) এর সার্বিক জরিপে আগামী সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবই নিরঙ্কুশ জয়ী হবেন বলে এখন পর্যন্ত সবধরণের সম্ভাবনা দেখছে।

এমএনআই

ফেসবুক পেইজ