শ্রদ্ধায় স্মরণ : জননেতা সৈয়দ আশরাফ | Sylhet i News
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

প্রকাশ ২০২১-০৬-১৮ ১২:১২:১৯
শ্রদ্ধায় স্মরণ : জননেতা সৈয়দ আশরাফ

সেদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। সাথে ছিলেন সিলেট মহানগর ন্যাপের সভাপতি মরহুম ইসহাক আলী ভাই, আমি তখন সিলেট জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক। তারিখ ২০১৩ সালের ৫ মে।

পুরো ঢাকা শহর হেফাজতে ইসলামের দখলে। অনেক দেন দরবার শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তারা সমাবেশ করার অনুমতি পেয়ে যায়। হঠাৎ করে ঢাকার সাথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমরা দুজন আটকা পড়ি। মতিঝিলের একটা আবাসিক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়ে পড়ি। শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার কথা থাকলেও দুপুর থেকেই হেফাজতি মোল্লারা তাণ্ডব শুরু শুরু করে দেয়। হেফাজতের কর্মীরা বায়তুল মোকাররমে বইয়ের দোকান পুড়িয়ে দেয়, কমিউনিষ্ট পার্টির অফিসে আগুন দেয়, আওয়ামী লীগ অফিসেও হামলা করে।

তাঁরা অপরাজেয় বাংলা গুঁড়িয়ে দেয়ারও হুঁংকার দেয়। হাজার হাজার হেফাজত কর্মীর কাফেলা ছুটছে শাপলা চত্বরের দিকে। তাদের খেদমতে ব্যানার লাগিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভর্তি চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট মিনারেল ওয়াটার নিয়ে হাজির হয়েছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও তাদের অনুসারী কয়েকটি ছোট ছোট দল। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনিও প্রায় নিস্ক্রীয়। সর্বত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সন্ধ্যায় আমরা দুজন হোটেলে চলে যাই। টিভি ছেড়ে পরিণতির অপেক্ষা…।

এমন এক অনিশ্চিত অবস্থায় আমরা দুজন রাজনৈতিক কর্মি আশার আলো দেখতে পাই। হেফাজতের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলছেন, “আমাদের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, রাতের মধ্যেই আপনারা ঘরে ফিরে যাবেন এবং ভবিষ্যতে আপনাদের আর ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না….”।

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে হেফাজত নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছিল তারা মনে হয় রাত পোহালেই ক্ষমতার মসনদে আড়োহন করবে…। রাত যতই গভীর হচ্ছিল উদ্বেগ উৎকন্ঠা ততই বাড়ছিল। সম্ভবত রাত একটার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। হোটেলের নিজস্ব বিদ্যুতে টিভি চলছিল। রাত আড়াইটার দিকে বিকট আওয়াজ…।ইশহাকভাইকে বললাম “কাজ হয়ে গেছে…”।

তিনি জানতে চাইলেন কি কাজ। আমি বলেছিলাম- ” সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের প্রতিফলন…”।

টিভি চ্যানেলে আলো আঁধারে দেখছিলাম জেহাদীদের লেজ গুটিয়ে পালানোর দৃশ্য। মুহুর্তেই হৃদয়ে ভেসে উঠলো ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ছোটবেলায় নিজ চোখে দেখা আমার বাড়ীর পাশের ক্যাম্প থেকে রাজাকারদের অস্ত্র ফেলে দৌড়ে পালানোর দৃশ্য।

রুহুল কুদ্দুস বাবুল

ফেসবুক পেইজ