স্কুল খুইলাছে রে মাওলা স্কুল খুইলাছে: আল-আমিন | Sylhet i News
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

আই নিউজ ডেস্ক ::>>

প্রকাশ ২০২১-০৯-১২ ২০:০৩:০৭
স্কুল খুইলাছে রে মাওলা স্কুল খুইলাছে: আল-আমিন

স্বাগতম, স্বাগতম। হে প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ তোমাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ থেকে স্বাগতম। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পযন্ত চার কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর একাংশ আজ স্কুল-কলেজে, মাদ্রাসা আর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্কুল খুইলাছে রে মাওলা স্কুল খুইলাছে।

আহা! কী মজার স্কুল। নতুন ড্রেস জুতো আর নতুন বই খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ আজ বেশ মাতিয়েছে মাস্তি।

আজ প্রত্যেকটি শিশু কিশোর কিশোরী  প্রথমে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে নাচানাচি করবে, হাসাহাসি করবে, আনন্দশ্রæঝরাবে আর বলবে, একবার দাঁড়াও বন্ধু, বহু দিন পর পাইছি তোমার লাগ। বহুদিনের অদেখার পর স্কুলে ফিরে গিয়ে প্রিয় বন্ধু আর স্যারদের সাথে আনন্দ-বেদনার গল্প আর মাতামাতির স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনবে দেড় বছর আগে ফেলা আসা দিনগুলোকে।

আজ স্কুল পড়ুয়া শিশু কিশোর কিশোরী নতুন উদ্যোমে আনন্দে উচ্ছ্বাসে এই শরতে, জীবনের শ্রেষ্ঠতম সময় স্কুলে। শিক্ষক শিক্ষার্থীর এই আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রানবন্ত হয়ে ওঠছে পুরো ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ। 

এরুপ আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে-

মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।

কে জানতো করোনা কোভিডে আঠারো মাস স্কুলের স্যার, বন্ধু-ক্লাস্মেট, শ্রেণীকক্ষ, বেঞ্চি, খেলার মাঠ আর বৃক্ষতলে আসন করে বসে গল্প আড্ডার আনন্দ চুপসে যাবে? আজ সেই আনন্দ ফিরে পাবার দিন, পুষিয়ে নেবার দিন। আজ থেকে স্কুলে বন্ধুদের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলবার দিন, গল্প শুনবার দিন, হুই হুল্লোর চেছামিছি আর আনন্দ ভাগাভাগি করার দিন। 

আজ থেকে আবার দেখা শুরু হবে এমিতা, মৌমিতা, প্রমিতা আর জিনিয়ার সাথে। এই তোরা কত্ত বড় হয়েছিস সুন্দর হইয়া গেছোস। এমন মাতামাতি, খেলাধুলা, মারামারি, খুনসুটি আর টিফিন ভাগাভাগি করে খাওয়ার দিন আবার এসেছে ফিরে। যেন আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। এমন আনন্দ উপভোগ করবার দিন। আবার এসেছে ফিরে এই ধানসিড়িঁটির তীরে।

গেল দেড় বছরে অজানা খবর জানা হবে ক্লাসের ফাঁকেফাঁকে। জানা হবে ক্লাস এইটে পড়া রাবুর নিজের অমতে তার বাবা মা চুপি চুপি বিয়ে দিয়েছেন পাশের গ্রামের জয়নুলের সাথে। আর অনলাইন ক্লাসের বদলতে বাবা মায়ের দেওয়া দামি স্মার্টফোন লুকায়িত ব্যাগ থেকে বের করে বন্ধুকে দেখিয়ে উচ্ছ্বাস প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে ওঠবে নবীন কিশোরের এই প্রাণ। আর বলবে এই তোর টিকটক আইডিটা দে আমায়।

আর যারা ইতিমধ্যে অটোপাস করেছেন এবং স্কুল ছেড়েছেন তারা জুনিয়র ভাইবোনের স্কুলে যাওয়ার আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখে গাইবে কবিতা দাও ফিরে সেই ছেলেবেলা পুতুল খেলার সময়টুকু। আমি চাই না অটো পাস। অটো তুমি আমায় করেছো খাটো। তুমি অটো পাস এমন খোঁটা শুনতেও চায় না, অটোটে গোল্ডেন এপ্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীও।

ভালোবাসার স্কুলে, ভালোলাগার বন্ধুর সাথে প্রিয় সাবজেক্ট ম্যাথম্যাটিকস কিংবা বায়োলজি নিয়ে জমে থাকা অংকের সমীকরণ মিলাতে মিলাতে দিন পার হতে থাকবে। অনেকে মাধ্যমিকে নতুন আবিস্কার আসাইনমেন্টের সাথে পরিচয় হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে। একজন অন্যজনের কাছ থেকে হুবহু দেখে লেখার অভিজ্ঞতা কিংবা একজন অন্যজনকে লিখে দেওয়ার নাম হচ্ছে আসাইনমেন্ট। ইহা সংজ্ঞায়িত করে হাসতে হাসতে এলিয়ে পড়বে। 

এই আনন্দ এই উচ্ছ্বাস করোনা নামক কোভিডে কিশোর কিশোরীদের গোল্ডেন সময় স্কুলে যাওয়ার আনন্দমাখা উৎসব যেন বিষাদে থমকে না যায় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে সকলের। ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক ভালোবাসায়। আর বিষাদময় দিন থেকে আলোকোজ্জ্বল দিনে ফিরবার যে আনন্দোচ্ছল তা টিকে থাকুক খেলার মাঠে মাঠে, গাছতলা আর বটতলাতে।


লেখক:

কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 


আইনিউজ/এসএ

ফেসবুক পেইজ