আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যেসব যুক্তি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর | Sylhet i News
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

আই নিউজ ডেস্ক ::>>

প্রকাশ ২০২১-০৯-১৪ ২১:২২:৫৩
আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যেসব যুক্তি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে বাইডেন প্রশাসন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে প্রকাশ্য শুনানিতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। শুনানিতে বর্তমান বিরোধীদলে থাকা দুইজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্লিংকেনকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।

শুনানিতে সমালোচনার জবাব দেন বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কূটনীতিক অ্যান্টনি ব্লিংকেন। 

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার এই শুনানিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্লিংকেনের কথা বলায় বাধা সৃষ্টি করেন। তারা চিৎকারও করেন। প্যানেলের শীর্ষ রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইকেল ম্যাককল বলেন, আমেরিকার মানুষ সন্ত্রাসীদের কাছে হারতে পছন্দ করে না। অথচ আফগানিস্তানে ঠিক এটাই ঘটেছে।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার শুনানিকালে ব্লিংকেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে যুক্তি দেখান। তিনি বলেন, সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। এ কারণে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষে পুনরায় আলোচনা করার সুযোগ ছিল না। কারণ, চুক্তির হেরফের হলে তালেবান আফগানিস্তানে অবস্থানরত আমেরিকানদের ফের হত্যা শুরুর হুমকি দিয়েছিল।

ব্লিংকেন বলেন, আমেরিকান ও ঝুঁকিতে থাকা আফগানদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও কিছু করা উচিত ছিল। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব ছিল। এর জন্য তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনকে দায়ী করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে সেনা প্রত্যাহারের একটি সময়সীমা পাই। কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য কোনো পরিকল্পনা পাইনি। এ সময় ব্লিংকেন বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান দীর্ঘায়িত করলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকার আরও বেশি স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠত—এমন কোনো প্রমাণ নেই। 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রশাসন কাতারের রাজধানী দোহায় আফগানিস্তানে যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য তালেবানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি অনুসারে মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহরের কথা ছিল। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়িয়ে ১১ সেপ্টেম্বর করেন।

মে মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট সেনা প্রত্যাহার শুরু করলে তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা দখল শুরু করে। গত ১৫ আগস্ট তারা প্রেসিডেন্ট প্যালেস দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। তালেবানের আকস্মিক ক্ষমতা দখলে আফগানিস্তানে আটকা পড়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে আইএসের হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়। এসব নিয়ে বাইডেন প্রশাসন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

আইনিউজ/এসএ

ফেসবুক পেইজ