সিলেট ছাত্রলীগের কমিটিতে আসলেই কী টাকার খেলা! | Sylhet i News
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২৩ অপরাহ্ন

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম

প্রকাশ ২০২১-১০-১৭ ১৪:০৩:৩৫
সিলেট ছাত্রলীগের কমিটিতে আসলেই কী টাকার খেলা!

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর)। কমিটি ঘোষণার পর পরই পদ বঞ্চিত একটি গ্রুপ এই কমিটি লক্ষ টাকার বাণিজ্যের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এই কমিটি বাতিলের দাবীতে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন তারা।

তবে, পদ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ। তারা দু’জনই এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ প্রমাণের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটিতে আসলেই কী টাকার খেলা চলেছে?

এর আগে, টাকার বিনিময়ে  সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) সম্মেলন করে এই দাবি জানান তারা। পাশাপাশি কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট এবং বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের তেলিহাওর গ্রুপের নেতা শাহরিয়ার আলম সামাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা আলা উদ্দিন পারভেজ, সাইফুর রহমান, সায়েদ আহমদ, খালেদুর রহমান, আসরাফুল ইসলাম বাপ্পি, নাঈম রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাদ বলেন, ‘আসলে যাঁরা ত্যাগী এবং যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌঁড়ে ছিলেন এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ছিলেন, তাঁদের কাছে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে টাকার অফার দেওয়া হয়েছিল। টাকা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই বলে এসব প্রার্থী তা প্রত্যাখ্যান করেন। আমাদের ধারণা, এর চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে সামাদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ে এক কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অছাত্র, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে ধর্ষণ মামলার আসামিদের গডফাদার, বিভিন্ন চেক অবমূল্যায়ন (ডিজ-অনার) মামলার আসামি, বিশেষ করে ফ্রিডম পার্টির নেতার নাতিকে নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করায় আমরা সিলেটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লজ্জিত, চরম হতাশ এবং বিব্রত। আমরা ঘোষিত এই কমিটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো অটল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পদ বঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতারা।  তবে সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সাথে সাক্ষাতকারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন বলেন, পদ বাণিজ্যের অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তবে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। একই ভাবে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমরা পারিবারিক ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। তিনি বলেন, আমাকে যোগ্যতার বিচারে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য’।

তিনি বলেন ‘বাণিজ্যের মাধ্যমে কমিটিতে স্থান নেয়ার অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারলে স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আমি প্রস্তুত আছি’। তাছাড়া- যদি তারা তা প্রমাণে ব্যর্থ হন তাহলে যারা এ অভিযোগ তোলেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী জানান নাইম।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদের চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের তেলিহাওর গ্রুপের অন্যতম নেতা শাহরিয়ার আলম সামাদ বলেন, আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকে টাকা দিতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তারা টাকা দিতে না পারায় তাদের যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও পদ পায়নি। অপরদিকে, তাদের থেকে কম যোগ্যতা সম্পন্নরা পদ পাওয়ায় এটাই প্রমানিত হয় যে তারা আরও বেশি টাকা পেয়েই তাদের পদ দিয়েছে।

এদিকে, অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তিনি গণমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কমিটি গঠনে টাকার লেনদেনের অভিযোগ পুরোটাই ভুয়া। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন খান নিজের পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চান। এর আগে তাঁর ভাই সভাপতি ছিলেন। এবারের কমিটিতে তাঁর ভাতিজাকে সভাপতি করতে চেয়েছিলেন। সেটা না হওয়ায় তাঁরা নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।’ লেখক ভট্টাচার্য আরো বলেন, ‘যাঁদের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে, তাঁদের কারো রাজনৈতিক ত্যাগ, যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নেতাদেরই কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে।’

এমএনআই

ফেসবুক পেইজ