সিলেটে লালনের গানে বিমোহিত হলেন দর্শক-শ্রোতা | Sylhet i News
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

আই নিউজ ডেস্ক ::>>

প্রকাশ ২০২১-১০-১৮ ১২:০৮:৫৯
সিলেটে লালনের গানে বিমোহিত হলেন দর্শক-শ্রোতা

মৃদ্যু আলো, জ্বলছে আবার নিভছে। মানুষগুলো যেন নীরবেই দোল খাচ্ছে। এ যেন সাধনার এক জগত! দৃশ্যটি রোববার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮ টায় সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মুক্ত মঞ্চের সামনের।

তখন মঞ্চে নিজ হাতে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইছিলেন গুনি সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। তাঁর কন্ঠে লালন সাঁইয়ের 'এমন মানব জনম আর কি হবে/মন যা কর ত্বরায় কর এই ভবে/ অনন্ত রূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই/শুনি মানবরূপের উত্তম কিছুই নাই।' গান যেন এ প্রজন্মের দর্শকদের সামনে লালনকেই উপস্থিত করেছে।

সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করেছিলো 'আরশিনগর' নামের একটি নবগঠিত সংগঠন। আয়োজনের নাম 'অচিন পাখি'।

এবার মঞ্চে আসলেন লালন শিল্পী জলি তালুকদার। প্রণাম জানালেন দর্শকদের। শুরু করলেন 'খাঁচার ভেতর অচিন পাখি,

ক্যামনে আসে যায়? তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পায়।' মন্ত্রমুগ্ধ গানগুলো যেন ক্ষুধার্ত দর্শকদের অন্তরাত্মা বিকশিত করে।

তাইতো গভীর মনযোগে থাকা দর্শক এ.কে.এম আব্দুল বাসিত তুহিনের কাছে অনুভূতি জানতে চাইলে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা পালন করে বললেন, 'আমি লালনের পাগল। গণমাধ্যমে জেনে আসলাম। মনে হলো অনেক দিনে প্রকৃত সুরে লালনের গান শুনলাম। শান্তি লাগছে মনে।'

এর আগে সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গুনী সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ সিলেটের সভাপতি মুকাদ্দেস বাবুল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি সামসুল আলম সেলিম, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, নাট্যজন সামসুল বাসিত শেরো। আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে একে একে গান পরিবেশ করেন হিমাংশু বিশ্বাস, পার্থ প্রদীপ মল্লিক, পল্লবি দাস মৌ, জলি তালুকদার, বাবুল বৈদ্য, আংশুমান দত্ত অঞ্জন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন সুরভী ব্যানার্জী।

শেষাংশে সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানের আয়োজক আব্দুল মালিক, উত্তম কাব্য, বদরুল আলম। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নীলাঞ্জন দাশ টুকু ও আমিরুল ইসলাম বাবু।

এমএনআই

ফেসবুক পেইজ