বিশ্বনাথে 'গুচ্ছগ্রামে’ বিনিয়োগে মুনাফার প্রলোভনে বৃদ্ধের পেনশনের টাকা আত্মসাৎ | Sylhet i News
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০১:৪১ অপরাহ্ন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :>>

প্রকাশ ২০২১-১০-১৮ ২২:০৮:৪৯
বিশ্বনাথে 'গুচ্ছগ্রামে’ বিনিয়োগে মুনাফার প্রলোভনে বৃদ্ধের পেনশনের টাকা আত্মসাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্প-১’র কাজে অর্থ বিনিয়োগে লাভ দেখিয়ে এক নিরীহ বৃদ্ধের ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 

তারা সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে বৃদ্ধের পেনশনের ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। বছরের পর বছর শত চেষ্টা করে টাকা উদ্ধার করতে না পেরে অবশেষে ওই দুই জনের বিরুদ্ধে, সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নাম্বার-০৩-২০২০ইং, ধারা-৪২০/৪০৬/৫০৬(২) দিয়েছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ হাজী মো. ফয়েজ উল্লাহ (৬০)। 

তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের মৃত মিলফত উল্লাহর ছেলে ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সাবেক সিনিয়র স্টাফ। মামলায় অভিযুক্ত জয়নুল হক জাহাঙ্গীর, গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণ বারকোট গ্রামের সিরাজ মাস্টারের ছেলে ও সালেহ আহমদ, দক্ষিণ সুরমা থানার খোজারখলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সরকারি চাকুরী থেকে সেচ্ছায় অবসর নেন হাজী মো. ফয়েজ উল্লাহ। অবসরভাতা হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় থেকে ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পান তিনি। বিশ^বিদ্যালয়ে চাকুরীর সুবাধে ও মেয়ের শশুড় গোলাপগঞ্জে হওয়ায় অভিযুক্ত জয়নুল হক জাহাঙ্গীর ও সালেহ আহমদের সাথে তার পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে তার অবসরভাতা প্রাপ্তির খবর পেয়ে অভিযুক্তরা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঘন ঘন তার অসুস্থতার খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে। তখন বিশ^নাথের খাজান্সি ইউনিয়নের গোবিন্দনগর বিলপার গ্রামে, ‘ছিন্নমূল মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই, প্রধানমন্ত্রীর পূষণী গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে’র কাজ চলছিল।

অভিযুক্তরা প্রকল্পের কাগজাদি দেখিয়ে বৃদ্ধকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী নিজে তাদেরকে ১শ ৫০টি ঘর তৈরীর কন্ট্রাক দিয়েছেন। এখানে ঋণ হিসেবে টাকা বিনিয়োগ করলে মুনাফাসহ ফেরত দেয়ার লোভ দেখায়। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৩ লক্ষ্য টাকা দেন ফয়েজ উল্লাহ। পরে সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ ২ লক্ষ ও নগদ আরও ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর টাকা চাইলে, দিব-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করতে তাকে অভিযুক্তরা। পরে পাওনা টাকা অস্বীকার করিয়া তাকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেয় তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে সালেহ আহমদ বলেন, ফয়েজ উল্লাহ নামের কাউকে আমি চিনি না। জয়নুল হক জাহাঙ্গীর আমার পূর্ব পরিচিত। তার আবদারে আমার নিজস্ব মোটরসাইকেলে ফয়েজ উল্লাহ’র বাড়িতে একদিন গিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে কি কথা-বার্তা বা লেনদেন হয়েছে তা আমার জানা নেই।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত জয়নুল হক জাহাঙ্গীর বলেন, যে অভিযোগ তিনি (ফয়েজ উল্লাহ) দিয়েছেন, সে বিষয়ে উনার সাথে আলাপ আলোচনা হয়েছে। কিছুটা টাকাও দেয়া হয়েছে। এটি সমাধানের পর্যায়ে আছে।  

আই নিউজ/ জেইউ

ফেসবুক পেইজ