নির্ধারিত সময়ে সব কোর্স পাশ না করায় শাবিপ্রবি ছাত্রের ছাত্রত্ব নেই | Sylhet i News
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি :>>

প্রকাশ ২০২১-১১-১১ ০১:৪৭:২২
নির্ধারিত সময়ে সব কোর্স পাশ না করায় শাবিপ্রবি ছাত্রের ছাত্রত্ব নেই

বছরে দুইটি সেমিস্টারের মাধ্যমে চার বছরে ০৮ সেমিস্টারে সর্বনিম্ম ১৪০ক্রেডিট কোর্স সম্পন্ন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অনার্স সম্পন্ন করে থাকেন। এতে বিধি অনুযায়ী যারা ১৪০ক্রেডিট সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় তাদের ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়। এতে নিয়মের বাহিরে চেষ্টা করলেও আর নিজের ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। সহজ কথায়, ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে জানা যায়, ফিরোজ আলম ২০১৩-১৪ সেশনে গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৪০ ক্রেডিটের মধ্যে সম্পন্ন করেছে মাত্র ১৩ ক্রেডিট। এতে ফিরোজ আলমের ছাত্রত্ব টিকে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার প্রেক্ষিতে গণিত বিভাগ এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের  সংশ্লীষ্ট কর্মকর্তা ও নথি ঘেটে জানা যায়, ১৬১ তম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসেই তার ছাত্রত্ব চলে যায়। সুতরাং সে আর নতুন করে ভর্তি হতে পারবে না এবং কোনো কোর্সই তুলতে পারবে না। সংশ্লীষ্ট দপ্তরের মাধ্যম আরও জানা যায়, কভিড-১৯ অবস্থায় ক্রেডিট ফি ও ভর্তি ফি জমা দেয়া স্থিতিশীল রেখে পরীক্ষা নেয়া হয়। এই অবস্থায় যদি সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েও থাকে তাহলে তার সেসব পরীক্ষার রেজাল্ট অন্তভূক্ত না হয়ে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। সুতরাং তার ছাত্রত্ব নেই আর।

গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রশিদ জানায়, নিয়ম মাপিক তার ছাত্রত্ব নেই। যেসব সুযোগ পূর্বে ছিল তা তার জন্য প্রযোজ্য নয়। সুতরাং এই ছাত্র ছাত্রত্বহীন বলে বিবেচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, আবাসিক হলে ৪০২৫ নম্বর কক্ষের তালা ভেঙে প্রবেশ করে জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া এবং একই কক্ষে নতুন ৪ শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে তুলে দেয়ার অভিযোগ করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের অনিয়মিত ছাত্র ফিরোজ আলম।

হলসূত্রে জানা যায়, ঐ কক্ষে ভর্তি ছিলেন দুইজন। তাদের মধ্যে একজন গণিত বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ফিরোজ আলম এবং অন্যজন একই বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের মাজেদুল ইসলাম। মাজেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, “এই কক্ষে আমরা দুইজনই ভর্তি, তাই কক্ষের চাবি আমার কাছেও একটি আছে। ঐ’রাতে আমি কক্ষের তালা খুলে প্রবেশ করি। এরপর দুইজন নতুন ছাত্র ফাঁকা দু’টি আসনে উঠে। কক্ষের জিনিসপত্র কক্ষেই আছে। তালা ভাঙ্গা বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটে নি।”

তবে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে বিষয়টি বিবেচনা করে সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক অপরাধীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শাস্তির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ পত্র পাঠায় বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানায় ফিরোজ।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম জানান, হল প্রভোস্ট এর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর জানান, ডাক মাধ্যমে অভিযোগ পেয়েছি তবে লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটে নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই আবাসিক হলের ক্যান্টিন থেকে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৫১৬টাকা বাকি রেখেই ২০২০ সালে হল ছেড়ে চলে যান ফিরোজ। এরমধ্যে একাধীকবার ফিরোজের কাছে টাকা চাইলেও তা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিশোধ করেনি বলে জানায় ক্যান্টিন পরিচালক ছুরুত আলী। তিনি বলেন, “টাকা চেয়েছি দেয়নি। এখন আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া কিছু করার নেই আমার।”

আই নিউজ /এপ

ফেসবুক পেইজ