বানিয়াচংয়ে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি | Sylhet i News
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:০৯ অপরাহ্ন

বানিয়াচং প্রতিনিধি :>>

প্রকাশ ২০২১-১১-২৪ ১৫:১৭:২৯
বানিয়াচংয়ে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বানিয়াচং উপজেলায় এবছর রোপা আমন চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। যদিও বানিয়াচংয়ে এবছর নবান্ন উৎসব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার গোলযোগের কারণে যদিও শুরুর দিকে রোপা আমনের চাষাবাদ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন কৃষকেরা।

তবে এবারের বর্ষায় পানি কিছুটা কম হওয়ায় এবং সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কারনে স্বস্থি দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচংয়ে এবছর ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষাবাদ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ৩৭০ হেক্টর বেশি। আর এবছর রোপা আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন। চাষাবাদকৃত ধানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বিআর ধান-২২।

এছাড়া ব্রি ধান-৫০, ব্রি ধান-৫২ এবং নতুন হিসেবে ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০ ও বিনা-১৭ প্রাজাতির ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। তাছাড়াও বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির রোপা আমন ধানের চাষাবাদও করা হয়েছে এবছর। উপজেলার ২ নং উত্তরপশ্চিম ইউনিয়নের তোপখানা মহল্লার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি প্রায় ৪ একর জমিতে রোপা মন ধানের চাষাবাদ করেছি। এবছর আমার ক্ষেতে প্রচুর ফলন হয়েছে। ধান কাটা শুরু করেছি। আশা করছি আমার চার একর জমি থেকে এবার প্রায় ২০০ মন ধান পাবো।

এমনকি ইরি-বোরো ধানের চেয়ে এবছর তার রোপা আমনে বেশি ফসল হয়েছে বলে জানান তিনি। ৩ নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের পাড়াগাঁও লস্করবাড়ির কৃষক তজিমুল লস্কর। তিনি এবছর দেড় একর জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। ধান পেয়েছেন ৬৪ মন। তিনি জানান, ‘আমার জমিতে এবছর বিনা-১১ জাতের ধান চাষ করেছি। ইতিমধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। বিনা-১১ চিকন জাতের ধান হাওয়ায় অন্যান্য ধানের চেয়ে এটির ফলন কিছুটা কম হয়ে থাকে। তারপরও আমার জমিতে আশানুরূপ ফলন হয়েছে এবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ‘কৃষিবিদ এনামুল হক  সিলেট আই নিউজকে জানান,আমন ধান হচ্ছে দুই ধরনের। বোনা আমন এবং রোপা আমন। বোনা আমনের চেয়ে রোপা আমনে দুই থকে তিন গুণ বেশি ধান হয়। তাই আমরা সবসময় রোপা আমন চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করে থাকি।’ উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তদারকিতে যথাসময়ে সার পাওয়া, কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য ভাল ফলন হয়েছে।

এবার ধানের বাজারও ভালো, আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহোগিতায় এবং আন্তরিকতায় বানিয়াচংয়ে আশাতীত রোপা আমন ধানের ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটছে তৃপ্তির হাসি। তিনি বলেন, বানিয়াচং অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষার পানি নামতে কিছুটা দেরি হয়। তাই রোপা আমনের চাষাবাদ করতেও কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তবে এবছর বর্ষায় বন্যা অথবা পানি তুলনামূলক কম হওয়া রোপা আমনের ফলন গতবারের চেয়েও ভালো হয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলে অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝিতে ধানকাটা শেষ হয়ে যায়।

কিন্তু বানিয়াচংয়ে তখন শুরু হয়। তবে রোপা আমনের চেয়েও দ্রুত কাটা যায় আউশ ধান। তাই বানিয়াচংয়ে আউশ ধান চাষ করার জন্যও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় কৃষকরা বোনা আমন ছেড়ে এখন রোপা আমন চাষাবাদের দিকে ঝুকছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক।

আই নিউজ/ এল টি

ফেসবুক পেইজ