মাতৃভাষার রক্তঋণের স্মৃতিতে লন্ডনে আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি :
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
হাজার মাইল দূরে প্রবাসের মাটিতে আবারও ধ্বনিত হলো একুশের অমর চেতনা। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়া শহীদদের স্মরণে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন-এ অনুষ্ঠিত হলো আবেগঘন একুশের প্রভাতফেরি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পৌঁছে দিতে এ আয়োজন যেন হয়ে উঠেছিল এক অঙ্গীকারের মিছিল।
শনিবার সকাল ১১টায় আলতাব আলি পার্ক-এ জড়ো হন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শহিদ মিনারের পাদদেশে ফুলেল শ্রদ্ধায়, নীরবতায় আর গর্বে ভরে ওঠে পরিবেশ। আয়োজন করে একুশের প্রভাতফেরি আয়োজন পরিষদ যুক্তরাজ্য।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য দেন আহ্বায়ক ডা. আশফাক আহমদ। তিনি বলেন, একুশ কেবল একটি দিন নয়—এটি আমাদের আত্মপরিচয়, আমাদের আত্মমর্যাদা। ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের সেই আত্মত্যাগের ভেতরেই জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ। একুশ না হলে বাংলাদেশ হতো না।
তার কণ্ঠে ছিল গর্ব, ছিল দৃঢ়তা। তিনি আরও বলেন, বিলেতের মাটিতে প্রভাতফেরি আয়োজন মানে শুধু স্মরণ নয়—এটি বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া, বাঙালি তার ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে কখনো আপস করে না।
প্রভাতফেরি শেষে নজরুল সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঞ্চে উঠে নতুন প্রজন্ম যখন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে, তখন হলভর্তি দর্শক আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবেশনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাজ্য সংসদ এবং সত্যেন সেন স্কুল অফ পারফর্মিং আর্টস।
শিশুদের কণ্ঠে একুশের গান, কবিতা ও নাট্যাংশ যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আত্মার পরিচয়। অনুষ্ঠান শেষ হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে; প্রবাসের আকাশে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার সুর।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে লন্ডনে একুশের প্রভাতফেরি আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন-এর আহ্বানে যুক্তরাজ্যে ক্রিয়াশীল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এ আয়োজন পরিষদ।
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এ প্রভাতফেরি যেন একটাই বার্তা দেয়—ভাষার জন্য যে জাতি রক্ত দিতে জানে, তাকে ইতিহাস কখনো মুছে ফেলতে পারে না। একুশ তাই কেবল স্মৃতি নয়, এটি চলমান সংগ্রামের প্রেরণা, এটি বাঙালির অদম্য আত্মমর্যাদার প্রতীক।




